ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

যে কারণে ভারতের ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২২

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভারতে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনকি বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিও এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধানের বহুল আলোচিত সম্ভাব্য এ সফর ঘিরে ভারত বেশ আশাবাদী ছিল। মূলত দুদেশের সম্পর্ক মেরামতের লক্ষ্যেই তারা এই সফরের দিকে তাকিয়ে ছিল।

তবে সম্প্রতি তারেক রহমানের সফরকে সামনে রেখে মোদি সরকারের কিছু সিদ্ধান্তে ঢাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভার্চুয়ালি সভা করার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার তোপের মুখে পড়ে নয়াদিল্লি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত দিল্লির কূটনীতিককে ডেকে উষ্মা প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ঘটনার পরম্পরায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বহুল আকাঙ্ক্ষিত ভারত সফর বাতিল হওয়ার নেপথ্য কারণ নিয়ে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। যদিও ভারত খুব করেই চাচ্ছিল এখনই তারেক রহমান ভারত সফর করুন।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের আয়োজক ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার বলে আসছিল যে, দুদেশের সম্পর্কোন্নয়নে তারা আন্তরিক।

তবে ভারত মুখে যাই বলুক না কেন, দেশটির সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত ঢাকাকে বিব্রত করেছে। তারা একদিকে যেমন সম্পর্কোন্নয়নের বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে নিজেদের ভূমিতে সুযোগ বা স্পেস দিয়েছে, যা নিয়ে দুদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল।

আজ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। এর কারণের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে ঢাকা মোটেও সন্তুষ্ট নয়।

তবে সরকারপ্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর পরে হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যখন ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে, তখন আমরা দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারি। এখানে তাড়াহুড়োর কোনো বিষয় নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁকে সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছে না ঢাকা।

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও ভারতের আমন্ত্রণের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, তা নিয়ে কেউ কেউ নানা জল্পনা করছেন। কেউ কেউ হয়তো এটা চায় না, বরং ভারতের ওপর একটি চাপ তৈরির জন্যই এমনটি করা হচ্ছে।

তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আমরা একটি কথা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সাথে যখন বিষয়টিকে শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তখন এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই নিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

যে কারণে ভারতের ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০৮:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমনকি বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিও এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধানের বহুল আলোচিত সম্ভাব্য এ সফর ঘিরে ভারত বেশ আশাবাদী ছিল। মূলত দুদেশের সম্পর্ক মেরামতের লক্ষ্যেই তারা এই সফরের দিকে তাকিয়ে ছিল।

তবে সম্প্রতি তারেক রহমানের সফরকে সামনে রেখে মোদি সরকারের কিছু সিদ্ধান্তে ঢাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভার্চুয়ালি সভা করার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার তোপের মুখে পড়ে নয়াদিল্লি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত দিল্লির কূটনীতিককে ডেকে উষ্মা প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ঘটনার পরম্পরায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বহুল আকাঙ্ক্ষিত ভারত সফর বাতিল হওয়ার নেপথ্য কারণ নিয়ে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। যদিও ভারত খুব করেই চাচ্ছিল এখনই তারেক রহমান ভারত সফর করুন।

আরও পড়ুন  তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর: লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের আয়োজক ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার বলে আসছিল যে, দুদেশের সম্পর্কোন্নয়নে তারা আন্তরিক।

তবে ভারত মুখে যাই বলুক না কেন, দেশটির সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত ঢাকাকে বিব্রত করেছে। তারা একদিকে যেমন সম্পর্কোন্নয়নের বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে নিজেদের ভূমিতে সুযোগ বা স্পেস দিয়েছে, যা নিয়ে দুদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল।

আজ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। এর কারণের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে ঢাকা মোটেও সন্তুষ্ট নয়।

আরও পড়ুন  গণ-অভ্যুত্থান সতর্কবার্তা নিয়ে নাহিদ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

তবে সরকারপ্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর পরে হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যখন ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে, তখন আমরা দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারি। এখানে তাড়াহুড়োর কোনো বিষয় নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁকে সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছে না ঢাকা।

আরও পড়ুন  আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে মির্জা ফখরুলের শোক

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও ভারতের আমন্ত্রণের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, তা নিয়ে কেউ কেউ নানা জল্পনা করছেন। কেউ কেউ হয়তো এটা চায় না, বরং ভারতের ওপর একটি চাপ তৈরির জন্যই এমনটি করা হচ্ছে।

তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আমরা একটি কথা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সাথে যখন বিষয়টিকে শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তখন এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই নিতে হবে।