ভোলার সদর উপজেলার মেঘনা নদীতে নদীতীর ধসে নিখোঁজ হওয়া মো. রাকিবের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একই ঘটনায় নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মো. আমজাদের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভোলার ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল মাছঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে রাকিব, আমজাদসহ পাঁচ বন্ধু আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ নদীতীরের একটি অংশ জিওব্যাগসহ ধসে নদীতে তলিয়ে যায়। এতে সেখানে থাকা পাঁচজনই খরস্রোতা মেঘনার পানিতে পড়ে যান।
পাঁচজনের মধ্যে ফাহিম, সাগর ও শাওন সাঁতরে নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু রাকিব ও বিজিবি সদস্য আমজাদ স্রোতের পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন।
খবর পেয়ে ভোলা সদর উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, সদর মডেল থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় অভিযান পরিচালনায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। বুধবার রাতেও দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হলেও রাকিব ও আমজাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এরপর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর তীর থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাছ ধরার সময় জেলেরা নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পরে রাকিবের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। রাকিব ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজারসংলগ্ন সর্দার বাড়ির মো. বাবুলের ছেলে।
ইলিশা নৌ থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, জেলেদের মাধ্যমে মরদেহ ভেসে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহটি রাকিবের বলে শনাক্ত করেন। তবে এখনো নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মো. আমজাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

























