ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ফিনল্যান্ডের মডেল কেন নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র? Logo পোলিশ অ্যাপেল কেকের সহজ রেসিপি! Logo ৬০ দিনের মধ্যে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ লিজ নেবে ইউএস-বাংলা Logo সুইডেনের নির্বাচনে ভোট শুরু, সরকারে প্রথমবার আসতে পারে উগ্র ডানপন্থীরা Logo মানচিত্রে আফ্রিকা এত ছোট কেন, বাস্তবে কতটা বড়? Logo iPhone 18 Pro বনাম iPhone 17 Pro নতুন মডেলে কী কী বদলেছে Logo প্রেমের নাটক-সিনেমা কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? হাইকোর্টে রিট, নজর এখন আদালতের সিদ্ধান্তে Logo ‘হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে গেছে’, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গীর জীবনে নেমে এলো শোক Logo ১০-০ গোলে উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক হার Logo মেসির পর আর্জেন্টিনা, ম্যারাডোনার ইতিহাস কী বলছে?

ব্যাংক স্প্রেডে বড় চাপ, সীমার ওপরে ৫৫ ব্যাংক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯

ব্যাংক স্প্রেড কমানোর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক স্প্রেড কমিয়ে ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নির্দেশনা কার্যকরের পরও দেশের অধিকাংশ ব্যাংক এখনো নির্ধারিত সীমায় আসতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৬টির স্প্রেড ৪ শতাংশের নিচে রয়েছে। অর্থাৎ ৫৫টি ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান এখনো নির্ধারিত সীমার ওপরে। এতে ঋণের সুদহার কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে।

বর্তমানে ১৪টি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের বেশি হলেও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে কয়েকটি খুব দ্রুত নির্ধারিত সীমার মধ্যে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ৩৯টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে অনেক ব্যাংকের ব্যবধান ৭ শতাংশেরও বেশি। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব ব্যাংককে স্প্রেড কমিয়ে ৪ শতাংশের মধ্যে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো ঋণ ও আমানতের সুদ সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সীমার মধ্যে থাকা ৬টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে কম স্প্রেড রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের—১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের স্প্রেড ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকের স্প্রেড ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, কমার্স ব্যাংকের ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ এসব ব্যাংক ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সীমার মধ্যে রয়েছে।

ব্যাংকের ধরনভেদেও স্প্রেডে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সরকারি খাতের ৬টি ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা নির্ধারিত সীমার তুলনায় বেশি। তবে সরকারি খাতের বিশেষায়িত ৩ ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ হওয়ায় তারা সীমার মধ্যেই রয়েছে। সবচেয়ে বেশি গড় স্প্রেড দেখা যাচ্ছে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে—৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ঋণের সুদ তুলনামূলক বেশি এবং আমানতের সুদ কম হওয়ায় তাদের স্প্রেডও বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্প্রেড কমানোর পাশাপাশি ঋণের সুদহার কমাতে মুদ্রাবাজারেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে কলমানি বাজারে সুদের হার একসময় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে তা গড়ে ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। একই সময়ে ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট এবং বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটও ৮ শতাংশের কিছুটা ওপরে অবস্থান করছে। এর আগে এসব হার ১২ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। ফলে ব্যাংকের অর্থ সংগ্রহের খরচ কমছে এবং এর প্রভাব ধীরে ধীরে ঋণের সুদেও পড়ছে।

এর আগে ২৯ জুন ব্যাংকগুলোর ব্যাংক স্প্রেড সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে রাখার সীমা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগে ব্যবধানটি প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। পাশাপাশি ২ আগস্ট নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি খাতে বৈদেশিক অর্থায়নের সুদহারও ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকগুলোর তহবিলের ব্যয় কমার পাশাপাশি ঋণের সুদহারও নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আগামী কয়েক মাসে আরও ব্যাংক নির্ধারিত সীমায় চলে আসবে এবং এতে ঋণগ্রহীতাদের ওপর সুদের চাপ কিছুটা কমবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ফিনল্যান্ডের মডেল কেন নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র?

ব্যাংক স্প্রেডে বড় চাপ, সীমার ওপরে ৫৫ ব্যাংক

Update Time : ১১:১৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংক স্প্রেড কমিয়ে ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নির্দেশনা কার্যকরের পরও দেশের অধিকাংশ ব্যাংক এখনো নির্ধারিত সীমায় আসতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৬টির স্প্রেড ৪ শতাংশের নিচে রয়েছে। অর্থাৎ ৫৫টি ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান এখনো নির্ধারিত সীমার ওপরে। এতে ঋণের সুদহার কমানো এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আরও সময় লাগতে পারে।

বর্তমানে ১৪টি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের বেশি হলেও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে কয়েকটি খুব দ্রুত নির্ধারিত সীমার মধ্যে চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ৩৯টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে অনেক ব্যাংকের ব্যবধান ৭ শতাংশেরও বেশি। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব ব্যাংককে স্প্রেড কমিয়ে ৪ শতাংশের মধ্যে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো ঋণ ও আমানতের সুদ সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সীমার মধ্যে থাকা ৬টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে কম স্প্রেড রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের—১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের স্প্রেড ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকের স্প্রেড ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, কমার্স ব্যাংকের ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ এসব ব্যাংক ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সীমার মধ্যে রয়েছে।

ব্যাংকের ধরনভেদেও স্প্রেডে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সরকারি খাতের ৬টি ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা নির্ধারিত সীমার তুলনায় বেশি। তবে সরকারি খাতের বিশেষায়িত ৩ ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ হওয়ায় তারা সীমার মধ্যেই রয়েছে। সবচেয়ে বেশি গড় স্প্রেড দেখা যাচ্ছে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে—৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ঋণের সুদ তুলনামূলক বেশি এবং আমানতের সুদ কম হওয়ায় তাদের স্প্রেডও বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্প্রেড কমানোর পাশাপাশি ঋণের সুদহার কমাতে মুদ্রাবাজারেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে কলমানি বাজারে সুদের হার একসময় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে তা গড়ে ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। একই সময়ে ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট এবং বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটও ৮ শতাংশের কিছুটা ওপরে অবস্থান করছে। এর আগে এসব হার ১২ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। ফলে ব্যাংকের অর্থ সংগ্রহের খরচ কমছে এবং এর প্রভাব ধীরে ধীরে ঋণের সুদেও পড়ছে।

এর আগে ২৯ জুন ব্যাংকগুলোর ব্যাংক স্প্রেড সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে রাখার সীমা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার আগে ব্যবধানটি প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। পাশাপাশি ২ আগস্ট নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি খাতে বৈদেশিক অর্থায়নের সুদহারও ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকগুলোর তহবিলের ব্যয় কমার পাশাপাশি ঋণের সুদহারও নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আগামী কয়েক মাসে আরও ব্যাংক নির্ধারিত সীমায় চলে আসবে এবং এতে ঋণগ্রহীতাদের ওপর সুদের চাপ কিছুটা কমবে।