সুইডেনে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনের ফলাফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ডানপন্থী জোট জয়ী হলে প্রথমবারের মতো সরকারে জায়গা পেতে পারে উগ্র ডানপন্থী Sweden Democrats।
ভোটকেন্দ্র স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় খুলেছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস দলের নেত্রী ও বিরোধীদলীয় প্রধান ম্যাগদালেনা অ্যান্ডারসন ভোটারদের মধ্যে প্রথম দিকেই ভোট দেন। ২০২১ সালে তিনি সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
অ্যান্ডারসন বনাম ক্রিস্টারসন
নির্বাচনের আগে দীর্ঘদিন ধরে জনমত জরিপে অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন চার দলের বামপন্থী জোট এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন চার দলের ডানপন্থী জোটে রয়েছে Sweden Democrats-ও।
তবে নির্বাচনের শেষ দিকে দুই পক্ষের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ফলে এবার ফলাফল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যান্ডারসন ভোট দেওয়ার পর বলেন, এখন সুইডেন কোন পথে যাবে তা দেশটির জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তার দল কল্যাণ রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করা এবং জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদ চান উলফ ক্রিস্টারসন
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও দ্বিতীয় চার বছরের মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সুইডেনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তার বর্তমান তিন দলের মধ্য-ডানপন্থী সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে Sweden Democrats-এর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে। দলটি অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
ডানপন্থী জোট আবারও জয়ী হলে Sweden Democrats-এর মন্ত্রিসভায় সরাসরি যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারে ঢোকার পথে Sweden Democrats
২০২২ সালের নির্বাচনে Sweden Democrats ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ডানপন্থী জোটের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসে। দলটির ঐতিহাসিক শিকড় নব্য-নাৎসি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সময়ের সঙ্গে দলটি মূলধারার ডানপন্থী রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।
এপ্রিল মাসে ক্রিস্টারসনের দল Moderates জানায়, ডানপন্থী জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে Sweden Democrats-কে সরকারে নেওয়া হবে। তবে দলটি বেশি ভোট পেলেও ক্রিস্টারসনই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
ফলাফলের দিকে তাকিয়ে পুরো দেশ
সুইডেনে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ ভোট দেওয়ার যোগ্য। ১ কোটি ৬ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে সাধারণত ভোটার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের ওপরে থাকে। এবারের নির্বাচনে প্রায় অর্ধেক ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।
ভোটকেন্দ্র স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বন্ধ হওয়ার কথা। এরপর বুথফেরত জরিপ প্রকাশিত হবে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রথম নির্ভরযোগ্য ফলাফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের ফল শুধু পরবর্তী সরকারই নির্ধারণ করবে না, সুইডেনের রাজনীতিতে উগ্র ডানপন্থী Sweden Democrats-এর ভূমিকা কতটা বাড়বে, সেটিও স্পষ্ট করবে।


























