ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই ছবি তৈরি করতে পানি-বিদ্যুতের বিপুল খরচ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

এআই ছবি তৈরি করতে কাজ করে শক্তিশালী ডেটা সেন্টারের সার্ভার। | ছবি: সংগৃহীত

এআই ছবি এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। মোবাইলে কয়েকটি শব্দ লিখে নির্দেশ দিলেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে আশির দশকের স্মৃতিময় দৃশ্য, সিনেমাটিক ছবি কিংবা কল্পনার কোনো চরিত্র। কিন্তু এই সহজ কাজটির পেছনে চলছে বিশাল কম্পিউটিং ব্যবস্থা। এআই ছবি তৈরি করতে দূরের ডেটা সেন্টারে থাকা শক্তিশালী সার্ভারকে জটিল হিসাব করতে হয়। আর সেই সার্ভার চালাতে লাগে বিদ্যুৎ, আবার অতিরিক্ত তাপ থেকে যন্ত্রপাতি রক্ষা করতে প্রয়োজন হয় কুলিং ব্যবস্থা। সেখানেই যুক্ত হচ্ছে পানির ব্যবহার।

বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যায় একটি উদাহরণে। আপনি যখন কোনো এআই টুলকে ‘পাহাড়ের ওপর সূর্যাস্তের ছবি তৈরি করো’ লিখে পাঠান, নির্দেশটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা সেন্টারে পৌঁছে যায়। সেখানে থাকা শক্তিশালী কম্পিউটার আপনার নির্দেশ বিশ্লেষণ করে ছবি তৈরি করে। হাজার হাজার সার্ভার একসঙ্গে কাজ করলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ দ্রুত সরিয়ে না ফেললে সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অনেক ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহার করে কুলিং ব্যবস্থা চালানো হয়।

এখানেই এআই ছবির সঙ্গে পানির সম্পর্ক তৈরি হয়। অনেক ডেটা সেন্টারে ‘ইভাপোরেটিভ কুলিং’ পদ্ধতিতে গরম পানি ঠান্ডা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় পানির একটি অংশ বাষ্প হয়ে বাতাসে চলে যায়। ফলে ব্যবহৃত পানি পুরোপুরি পুনরায় কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। আবার পানিতে থাকা খনিজের ঘনত্ব বেড়ে গেলে পাইপ ও যন্ত্রপাতিতে আস্তরণ জমতে পারে। তখন সেই পানি সরিয়ে নতুন পানি যোগ করতে হয়। ফলে একটি ছবি তৈরি করতে ব্যবহৃত কম্পিউটিং শক্তির সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পানির ব্যবহারও যুক্ত হয়ে যায়।

এআই ছবি তৈরিতে ঠিক কত পানি লাগে, তার নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা বলা কঠিন। কারণ কোন ডেটা সেন্টার ব্যবহার হচ্ছে, কী ধরনের হার্ডওয়্যার চলছে, কুলিং ব্যবস্থা কেমন এবং বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে—এসবের ওপর হিসাব বদলে যায়। বিভিন্ন বিশ্লেষণে একটি এআই ছবি তৈরির জন্য কয়েক মিলিলিটার থেকে কয়েক দশক মিলিলিটার পর্যন্ত পানির ব্যবহারের হিসাব পাওয়া যায়। তবে একটি ছবির হিসাব ছোট মনে হলেও বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক এআই ছবি তৈরি হওয়ায় সামগ্রিক প্রভাব বড় হয়ে উঠতে পারে।

শুধু সরাসরি কুলিংয়ের পানিই বিষয় নয়। এআই ছবি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পানির ব্যবহার থাকতে পারে। বিশেষ করে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে পানি প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ একজন ব্যবহারকারী নিজের ফোনে এআই ছবি তৈরি করার সময় হাতে পানি ব্যবহার না করলেও সেই কাজের পেছনে থাকা অবকাঠামোর মাধ্যমে পানির ব্যবহার ঘটতে পারে। এ কারণেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। কোথাও পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহার করা হচ্ছে, কোথাও পানির ব্যবহার কম এমন কুলিং প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। আবার ক্লোজড-লুপ কুলিং ও ইমারশন কুলিংয়ের মতো পদ্ধতি নিয়েও কাজ চলছে। কিছু প্রতিষ্ঠান সমুদ্রের ঠান্ডা পানিকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও পরীক্ষা করেছে। তবে পানি কমাতে গেলে অনেক সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ শুধু আরও শক্তিশালী এআই তৈরি করা নয়; একই সঙ্গে কম পানি ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেই প্রযুক্তি চালানো। ব্যবহারকারীর কাছে এআই ছবি যতই সহজ মনে হোক, এর পেছনে থাকা অবকাঠামো আসলে অনেক বড়।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই ছবি তৈরি করতে পানি-বিদ্যুতের বিপুল খরচ

Update Time : ০২:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই ছবি এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। মোবাইলে কয়েকটি শব্দ লিখে নির্দেশ দিলেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে আশির দশকের স্মৃতিময় দৃশ্য, সিনেমাটিক ছবি কিংবা কল্পনার কোনো চরিত্র। কিন্তু এই সহজ কাজটির পেছনে চলছে বিশাল কম্পিউটিং ব্যবস্থা। এআই ছবি তৈরি করতে দূরের ডেটা সেন্টারে থাকা শক্তিশালী সার্ভারকে জটিল হিসাব করতে হয়। আর সেই সার্ভার চালাতে লাগে বিদ্যুৎ, আবার অতিরিক্ত তাপ থেকে যন্ত্রপাতি রক্ষা করতে প্রয়োজন হয় কুলিং ব্যবস্থা। সেখানেই যুক্ত হচ্ছে পানির ব্যবহার।

বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যায় একটি উদাহরণে। আপনি যখন কোনো এআই টুলকে ‘পাহাড়ের ওপর সূর্যাস্তের ছবি তৈরি করো’ লিখে পাঠান, নির্দেশটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা সেন্টারে পৌঁছে যায়। সেখানে থাকা শক্তিশালী কম্পিউটার আপনার নির্দেশ বিশ্লেষণ করে ছবি তৈরি করে। হাজার হাজার সার্ভার একসঙ্গে কাজ করলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ দ্রুত সরিয়ে না ফেললে সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অনেক ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহার করে কুলিং ব্যবস্থা চালানো হয়।

আরও পড়ুন  এআই ছবি ভিডিও নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা কনকচাঁপার

এখানেই এআই ছবির সঙ্গে পানির সম্পর্ক তৈরি হয়। অনেক ডেটা সেন্টারে ‘ইভাপোরেটিভ কুলিং’ পদ্ধতিতে গরম পানি ঠান্ডা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় পানির একটি অংশ বাষ্প হয়ে বাতাসে চলে যায়। ফলে ব্যবহৃত পানি পুরোপুরি পুনরায় কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। আবার পানিতে থাকা খনিজের ঘনত্ব বেড়ে গেলে পাইপ ও যন্ত্রপাতিতে আস্তরণ জমতে পারে। তখন সেই পানি সরিয়ে নতুন পানি যোগ করতে হয়। ফলে একটি ছবি তৈরি করতে ব্যবহৃত কম্পিউটিং শক্তির সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে পানির ব্যবহারও যুক্ত হয়ে যায়।

এআই ছবি তৈরিতে ঠিক কত পানি লাগে, তার নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা বলা কঠিন। কারণ কোন ডেটা সেন্টার ব্যবহার হচ্ছে, কী ধরনের হার্ডওয়্যার চলছে, কুলিং ব্যবস্থা কেমন এবং বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে—এসবের ওপর হিসাব বদলে যায়। বিভিন্ন বিশ্লেষণে একটি এআই ছবি তৈরির জন্য কয়েক মিলিলিটার থেকে কয়েক দশক মিলিলিটার পর্যন্ত পানির ব্যবহারের হিসাব পাওয়া যায়। তবে একটি ছবির হিসাব ছোট মনে হলেও বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক এআই ছবি তৈরি হওয়ায় সামগ্রিক প্রভাব বড় হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন  ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর তৈরি রেটিনামাইন্ড, চোখের স্ক্যানেই অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তের সম্ভাবনা

শুধু সরাসরি কুলিংয়ের পানিই বিষয় নয়। এআই ছবি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পানির ব্যবহার থাকতে পারে। বিশেষ করে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে পানি প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ একজন ব্যবহারকারী নিজের ফোনে এআই ছবি তৈরি করার সময় হাতে পানি ব্যবহার না করলেও সেই কাজের পেছনে থাকা অবকাঠামোর মাধ্যমে পানির ব্যবহার ঘটতে পারে। এ কারণেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

আরও পড়ুন  হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: দ্রুত অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের সহজ উপায় জানুন

তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। কোথাও পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহার করা হচ্ছে, কোথাও পানির ব্যবহার কম এমন কুলিং প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। আবার ক্লোজড-লুপ কুলিং ও ইমারশন কুলিংয়ের মতো পদ্ধতি নিয়েও কাজ চলছে। কিছু প্রতিষ্ঠান সমুদ্রের ঠান্ডা পানিকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও পরীক্ষা করেছে। তবে পানি কমাতে গেলে অনেক সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ শুধু আরও শক্তিশালী এআই তৈরি করা নয়; একই সঙ্গে কম পানি ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেই প্রযুক্তি চালানো। ব্যবহারকারীর কাছে এআই ছবি যতই সহজ মনে হোক, এর পেছনে থাকা অবকাঠামো আসলে অনেক বড়।