ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১০

মিয়ানমারে কার্যক্রম ঘিরে তদন্তের মুখে টেলিনর। ছবি: সংগৃহীত।

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের পুলিশ। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে গ্রাহকদের যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নরওয়ের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস ও নিরাপত্তা সংস্থা পিএসটি জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অসলোতে টেলিনরের সদর দপ্তরে অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

নরওয়ের পুলিশের অভিযোগ, টেলিনর মিয়ানমারের গ্রাহকদের যোগাযোগের তথ্য একাধিকবার সামরিক সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাদের দাবি, ওই সময় দেশটির সামরিক সরকার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর একটি অংশের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালাচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে নিজেদের ব্যবসা বিক্রি করে দেয় টেলিনর এবং ২০২২ সালের মার্চে দেশটি থেকে পুরোপুরি কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নরওয়ের তদন্তকারীদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে যতটা সম্ভব পরিষ্কার তথ্য দিতে চায়। টেলিনরের দাবি, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে তাদের কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ছিল।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনর–মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, সামরিক জান্তার রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ফোনকল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অন্তত একজন অধিকারকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ দাবিগুলোও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।

টেলিনরকে ঘিরে তদন্তের আরেকটি দিক হলো নজরদারি সরঞ্জাম। নরওয়ের পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে ব্যবসা বিক্রির সময় নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নজরদারি সরঞ্জামও হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের লেনদেনের জন্য নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। অধিকারকর্মীদের সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং টেলিনরের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩০ বছর পরও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন সালমান শাহ

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর

Update Time : ১২:৩৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের পুলিশ। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে গ্রাহকদের যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নরওয়ের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস ও নিরাপত্তা সংস্থা পিএসটি জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অসলোতে টেলিনরের সদর দপ্তরে অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন  নেপাল বন্যা: সর্বশেষ তথ্য, ৩১ জনের মৃত্যু

নরওয়ের পুলিশের অভিযোগ, টেলিনর মিয়ানমারের গ্রাহকদের যোগাযোগের তথ্য একাধিকবার সামরিক সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাদের দাবি, ওই সময় দেশটির সামরিক সরকার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর একটি অংশের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালাচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে নিজেদের ব্যবসা বিক্রি করে দেয় টেলিনর এবং ২০২২ সালের মার্চে দেশটি থেকে পুরোপুরি কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নরওয়ের তদন্তকারীদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে যতটা সম্ভব পরিষ্কার তথ্য দিতে চায়। টেলিনরের দাবি, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে তাদের কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ছিল।

আরও পড়ুন  রামমন্দিরে অর্থ কেলেঙ্কারি, মোদি-যোগী দ্বন্দ্বে নতুন প্রশ্ন

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনর–মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, সামরিক জান্তার রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ফোনকল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় অন্তত একজন অধিকারকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এ দাবিগুলোও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।

আরও পড়ুন  ইরানি হামলায় সৌদির তেল ট্যাংকারে নিহত দুই নাবিক

টেলিনরকে ঘিরে তদন্তের আরেকটি দিক হলো নজরদারি সরঞ্জাম। নরওয়ের পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে ব্যবসা বিক্রির সময় নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নজরদারি সরঞ্জামও হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের লেনদেনের জন্য নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। অধিকারকর্মীদের সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং টেলিনরের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।