ব্যাটিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। এশিয়ান গেমস শেষ হওয়ার পর আর এই দায়িত্বে থাকবেন না, সেটি আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে কঠিন সময়ে বোর্ডের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার কারণে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন, এমন গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করেছেন নিগার।
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন নিগার। তিনি জানান, ক্ষোভ বা কষ্ট থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। বরং একজন ব্যাটার ও খেলোয়াড় হিসেবে দেশ এবং দলের জন্য এখনো অনেক কিছু দেওয়ার আছে। সেই জায়গাতেই নিজের মনোযোগ বাড়াতে চান তিনি।
নিগার বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে তার সামনে এখনো অনেক দায়িত্ব রয়েছে। অধিনায়কত্বের অতিরিক্ত চাপের বাইরে থেকে ব্যাটিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি। তাই নিজের খেলায় উন্নতি এবং দলের হয়ে আরও ভালো পারফরম্যান্স করার লক্ষ্যেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোববার নিশিনের করোঘি স্পোর্টস পার্কে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫.৪ ওভারে ৮১ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। ফলে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত। এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। বড় লক্ষ্য তাড়ায় একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দল।
এমন ব্যাটিং বিপর্যয়কে অবশ্য অস্বাভাবিক মনে করছেন না নিগার। তার মতে, বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে দ্রুত উইকেট হারানোর পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। তবে ভারতের রান আরও কমিয়ে রাখা গেলে বাংলাদেশের সামনে কিছুটা সহজ লক্ষ্য থাকত বলেও মনে করেন তিনি।
নিগারের ভাষ্য, বোলিংয়ে বাংলাদেশ আরও ভালো করতে পারলে ভারতের রান কিছুটা আটকে রাখা সম্ভব ছিল। পাশাপাশি ব্যাটারদের দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। তার মতে, টপ অর্ডারের অন্তত একজন ব্যাটার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে দলের স্কোর আরও কিছুটা বাড়তে পারত।
এশিয়ান গেমসের আগে জাপানে প্রস্তুতির ঘাটতিও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন নিগার। বৃষ্টির কারণে সেখানে মাত্র দুই দিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় দলের প্রস্তুতিও প্রত্যাশামতো হয়নি বলে জানান তিনি।
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। এর আগে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চীনের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সেটিও শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমে যায় বাংলাদেশের।
এ বিষয়ে নিগার বলেন, জাপানে অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছিল না। চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পারলে পুরো দলের জন্য ভালো হতো। তবে সেই সুযোগও তারা হারিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এ ম্যাচে পুরো দলই প্রত্যাশার তুলনায় অনেক খারাপ ক্রিকেট খেলেছে বলে মনে করেন তিনি।
ভারতের কাছে হেরে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদকের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। এখন ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে দলটি। এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী নিগার।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে দলকে জেতাতে চান নিগার। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড ভালো হওয়ায় দলের ড্রেসিংরুমেও ইতিবাচক পরিবেশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ করার আগে জয় দিয়েই শেষ করতে চান এই বাংলাদেশি ব্যাটার।


























