ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সংযোগ সড়কবিহীন ৭৮ লাখ টাকার সেতু এখনো অচল Logo ট্রাম্প-মেলানিয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান Logo ট্রেন চুরি কাণ্ডে মূল হোতাসহ ৫ আটক Logo দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশ নারী হকি দলের ৮-০ গোলের হার Logo কুড়িগ্রাম কৃষি উপপরিচালক বদলি হয়ে নতুন দায়িত্বে রওশন কবীর Logo ২১ বছর পর বদলে গেল জুলিয়া হত্যা মামলার রায়, খালাস আমীর হোসেন Logo বয়স্কদের ডায়াবেটিস-হৃদ্‌রোগে কী খাবার, কী এড়িয়ে চলবেন? Logo অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমবে কেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা Logo স্থানীয় নির্বাচন কবে, ২০২৭-এর শুরুতেই কি ভোট? Logo চন্দনাইশে ফাজিল ছাত্রকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের অভিযোগ মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, ইউএনও বরাবর অভিযোগ

সংযোগ সড়কবিহীন ৭৮ লাখ টাকার সেতু এখনো অচল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৩

সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহারহীন সেতু। ছবি: সংগৃহীত

সংযোগ সড়কবিহীন সেতু—কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বালাটারী গ্রামের মানুষের কাছে এটি এখন উন্নয়নের এক অসম্পূর্ণ প্রতীক। প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি কয়েক বছর আগেই শেষ হয়েছে, কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি আজও মানুষের কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয়দের আশা ছিল, সেতু নির্মাণ হলে মরা তিস্তা খাল পারাপারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও সেখানে ওঠার রাস্তা না থাকায় চাকিরপশার ও নাজিমখান ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯–২০ অর্থবছরে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরে মূল সেতুর নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও বিভিন্ন কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূল ঠিকাদার জানিয়েছেন, সাব-ঠিকাদার অনুপস্থিত থাকায় কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে এবং খুব দ্রুত সংযোগ সড়কের নির্মাণ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, এখনো ঠিকাদারকে পূর্ণ বিল দেওয়া হয়নি এবং চলতি সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন—মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত সংযোগ সড়কবিহীন সেতু আর কতদিন অচল পড়ে থাকবে? তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতুকে জনগণের ব্যবহারের উপযোগী করা হোক।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংযোগ সড়কবিহীন ৭৮ লাখ টাকার সেতু এখনো অচল

সংযোগ সড়কবিহীন ৭৮ লাখ টাকার সেতু এখনো অচল

Update Time : ০২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংযোগ সড়কবিহীন সেতু—কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বালাটারী গ্রামের মানুষের কাছে এটি এখন উন্নয়নের এক অসম্পূর্ণ প্রতীক। প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি কয়েক বছর আগেই শেষ হয়েছে, কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি আজও মানুষের কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয়দের আশা ছিল, সেতু নির্মাণ হলে মরা তিস্তা খাল পারাপারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও সেখানে ওঠার রাস্তা না থাকায় চাকিরপশার ও নাজিমখান ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন  তিস্তার পানি বিপদ সীমার উপরে, ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯–২০ অর্থবছরে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরে মূল সেতুর নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও বিভিন্ন কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  কুড়িগ্রাম বিদ্যুৎ বিভ্রাট: ৯ ঘণ্টা শাটডাউন ২ উপজেলায়

মূল ঠিকাদার জানিয়েছেন, সাব-ঠিকাদার অনুপস্থিত থাকায় কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে এবং খুব দ্রুত সংযোগ সড়কের নির্মাণ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, এখনো ঠিকাদারকে পূর্ণ বিল দেওয়া হয়নি এবং চলতি সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন—মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত সংযোগ সড়কবিহীন সেতু আর কতদিন অচল পড়ে থাকবে? তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতুকে জনগণের ব্যবহারের উপযোগী করা হোক।

আরও পড়ুন  জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ: ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারলো টাইগাররা