ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে বার্সেলোনা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাতালান ক্লাবটির আয় দাঁড়িয়েছে ১০৬ কোটি ইউরো, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৬ কোটি ৬০ লাখ ইউরো বেশি। এর মধ্য দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের পর ইউরোপের দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে এক বিলিয়ন ইউরো আয়ের মাইলফলক ছুঁয়েছে বার্সা।
তবে রেকর্ড আয় করেও মৌসুম শেষে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সব ধরনের ব্যয় হিসাব করার পর গত অর্থবছরে ক্লাবটির নিট লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। অর্থাৎ আয় বাড়লেও এখনো পুরোপুরি লাভের ধারায় ফিরতে পারেনি বার্সেলোনা।
‘ডেলয়েট ফুটবল মানি লিগের’ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেলে রিয়ালের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিলিয়ন ইউরোর ক্লাবে নাম লেখাবে বার্সেলোনা। এর মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের আর্থিক শক্তির বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে।
কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ১০৪ কোটি ইউরো আয় করে ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে এক মৌসুমে এক বিলিয়ন ইউরো আয়ের রেকর্ড গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। পরের মৌসুমে নিজেদের সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যায় তারা।
২০২৪-২৫ মৌসুমে রিয়ালের আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬ কোটি ইউরোতে। সেই মৌসুমে আয়ের দিক থেকে বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই ও লিভারপুলকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান ধরে রাখে মাদ্রিদের ক্লাবটি।
বার্সেলোনার সাম্প্রতিক আর্থিক সাফল্যকে কয়েক বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর কাজও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখার লক্ষ্যও রয়েছে।
বার্সেলোনার প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমেও আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে। ২০২৬-২৭ মৌসুমের অনুমোদিত বাজেটে ১১৯ কোটি ইউরো আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে ক্লাবটি। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বেশি।
এবার লোকসানের খাতা বন্ধ করে মুনাফায় ফেরার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে বার্সেলোনা। ক্লাব কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে প্রায় ১০ লাখ ইউরো নিট লাভ হতে পারে। সেটি হলে আগের অর্থবছরের তুলনায় আর্থিক ফলাফলে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ইউরোর উন্নতি হবে।























