অবশেষে ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। চিকিৎসক নিয়োগের জন্য এই বিসিএসটি বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডারে মোট ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
নিয়োগের ৫ হাজার পদের মধ্যে ৪ হাজার ৭০০টি সহকারী সার্জন এবং ৩০০টি সহকারী ডেন্টাল সার্জনের পদ। সহকারী সার্জন পদে আবেদনের জন্য এমবিবিএস বা সমমানের ডিগ্রি এবং ডেন্টাল সার্জন পদের জন্য বিডিএস বা সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন হবে। বিদেশি বা ভিন্ন নামে অর্জিত ডিগ্রির ক্ষেত্রে সমমানের সনদ দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫১তম বিশেষ বিসিএসে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। ১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউজার আইডি পাওয়া প্রার্থীরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রার্থীর বয়স ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশের নাগরিকরা এই বিশেষ বিসিএসে অংশ নিতে পারবেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষায় অবতীর্ণ প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি কমানো। এর আগে সরকারি হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় পিএসসি বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
বিশেষ বিসিএসের ক্ষেত্রে সাধারণ বিসিএসের মতো দীর্ঘ লিখিত পরীক্ষার ধাপ থাকে না। চিকিৎসকদের দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যেই তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার সুযোগ থাকে।
এর আগে ৫০তম বিসিএসের কার্যক্রম চলার মধ্যেই পরবর্তী বিসিএস সাধারণ হবে নাকি বিশেষ হবে, তা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পিএসসি জানিয়েছিল, দুই ধরনের বিসিএসের কোনটির বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশ হবে, সে বিষয়ে তখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এখন সেই অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। চিকিৎসকদের বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশ হওয়ায় এটিই ৫১তম বিসিএস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এর ফলে সাধারণ ক্যাডারের চাকরিপ্রার্থীদের পরবর্তী বিসিএসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
পিএসসির সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও দেখা যাচ্ছে, ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা এখনো চলমান। কমিশনের ওয়েবসাইটে সেপ্টেম্বরেও ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার বিভিন্ন সময়সূচি ও পুনর্নির্ধারণসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে।
এদিকে সাধারণ বিসিএসপ্রত্যাশীদের নজর এখন ৫২তম বিসিএসের দিকে। আগে পিএসসির রোডম্যাপ অনুযায়ী নভেম্বর মাসে নতুন সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। তবে ৫১তম বিসিএসের ক্রম পরিবর্তিত হওয়ায় সাধারণ ক্যাডারের পরবর্তী বিসিএস এখন ৫২তম হিসেবে আসবে।
তাই চিকিৎসক প্রার্থীদের জন্য ৫১তম বিশেষ বিসিএসের আবেদন ও পরীক্ষার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর সাধারণ ক্যাডারের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। আবেদন, বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্তের ক্ষেত্রে পিএসসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

























