ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা জন নায়গন মুক্তি পাচ্ছে ৮ মে Logo আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু: বাংলাদেশে এসকেএফ ও নভো নরডিস্ক এর যৌথ উদ্যোগ Logo বিদ্যুৎচালিত এয়ার ট্যাক্সি: নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলক উড়ান, ১০ মিনিটে বিমানবন্দর যাত্রা সম্ভব Logo সারজিসের মূত্রনালীতে পাথর, অপারেশনের সিদ্ধান্ত Logo আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ-রুপার দামে বড় পতন, উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা Logo সংসদে বিএনপি-জামায়াত উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়: ফজলুর রহমানের মন্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ Logo এলপিজি কার্ড নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত Logo বিশ্বজুড়ে আলোচনায় “মাইকেল জ্যাকসনের” বায়োপিক Logo রাজধানীতে সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬ জন Logo কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা মামলায় কী বলল আসামিরা

শত শত কোটি টাকার টোল চুরি, রেগনাম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০৬:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৮

চিত্রঃ শত শত কোটি টাকার টোল চুরির অভিযোগ

দেশের বিভিন্ন সেতু ও টোলপ্লাজা থেকে শত শত কোটি টাকার টোল চুরির অভিযোগ উঠেছে রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি মেঘনা-গোমতী সেতুসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুর টোল আদায়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ি চলাচলের তথ্য মুছে ফেলে প্রকৃত টোল আদায়ের হিসাব গোপন করা হয়েছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিক টোল আদায় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করছে। তবে এই কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যথাযথ চুক্তি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা সরকারি ক্রয়বিধি মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, টোল আদায়ের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় নজরদারি দুর্বল থাকায় অনিয়ম সহজ হয়েছে। মেঘনা-গোমতী সেতু দেশের অন্যতম ব্যস্ত টোলপ্লাজা হিসেবে পরিচিত। এখানে বছরে বিপুল পরিমাণ টোল আদায় হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রদর্শিত হিসাবের বাইরে আরও বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তার সব তথ্য সরকারি হিসাবে দেখানো হয়নি। ফলে প্রকৃত আদায় ও জমা দেওয়া অর্থের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকতে পারে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রেগনাম রিসোর্সেস তাদের ব্যবহৃত সফটওয়্যার থেকে যানবাহন চলাচল, টোল লেনদেন এবং সার্ভার লগের তথ্য মুছে ফেলেছে। এর মাধ্যমে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা জমা পড়েছে এবং কত টাকা অনিয়ম হয়েছে—সেসব তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অনিয়ম শনাক্ত করতে দক্ষ নিরীক্ষা প্রয়োজন। তারা জানান, সাধারণ কাগজপত্র যাচাই করে এই ধরনের অনিয়ম ধরা কঠিন। কারণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা আংশিক প্রদর্শন করা সম্ভব। তাই নিরপেক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে সার্ভার, ডাটাবেজ এবং আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা জরুরি। তা না হলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুধু মেঘনা-গোমতী নয়, দেশের আরও কয়েকটি টোলপ্লাজায় একই ধরনের অনিয়ম হতে পারে। সীতাকুণ্ড, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, চরসিন্দুর এবং কুমারখালী এলাকার কিছু টোলপ্লাজার নামও আলোচনায় এসেছে। এসব স্থানে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। সড়ক ও সেতু খাতের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টোল আদায়ের খাতে বহু বছর ধরেই কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ছিল। সরকার পরিবর্তন হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান আগের মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নীতিগত সংস্কার না হলে অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন হবে।

রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড কীভাবে কাজের দায়িত্ব পেয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে লিখিত কার্যাদেশ ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়েছে। আবার কোথাও মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে কার্যক্রম চলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তা প্রশাসনিক জবাবদিহির বড় প্রশ্ন তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কাঠামো নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথিতে পরিবারভিত্তিক মালিকানা, শেয়ার বণ্টন এবং দায়িত্ব বণ্টনের তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন প্রতিনিধি পরে কথা বলার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে তাদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে টোল আদায় সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পূর্বে মেঘনা-গোমতী টোলপ্লাজা নিয়ে একটি মামলাও হয়েছে। সেই মামলায় আগের সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার নাম আসে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, কমিশনের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পেলে নতুন অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান শুরু করা হবে। রেগনাম রিসোর্সেস সম্পর্কেও বিভিন্ন দপ্তর থেকে অভিযোগ এসেছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, টোল আদায় খাত দেশের অবকাঠামো অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে স্বচ্ছতা না থাকলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তাই ডিজিটাল টোল ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদারকি, স্বয়ংক্রিয় নিরীক্ষা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

তারা আরও বলেন, প্রতিটি টোলপ্লাজার সরাসরি নজরদারি, তৃতীয় পক্ষ নিরীক্ষা এবং প্রকাশ্য হিসাব ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এতে জনগণের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শত শত কোটি টাকার টোল চুরি সংক্রান্ত এই অভিযোগ এখন জনমনে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে স্বাধীন তদন্ত, প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে। এখন নজর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

থালাপতি বিজয়ের শেষ সিনেমা জন নায়গন মুক্তি পাচ্ছে ৮ মে

শত শত কোটি টাকার টোল চুরি, রেগনাম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

Update Time : ০৬:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিভিন্ন সেতু ও টোলপ্লাজা থেকে শত শত কোটি টাকার টোল চুরির অভিযোগ উঠেছে রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি মেঘনা-গোমতী সেতুসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুর টোল আদায়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ি চলাচলের তথ্য মুছে ফেলে প্রকৃত টোল আদায়ের হিসাব গোপন করা হয়েছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিক টোল আদায় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করছে। তবে এই কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যথাযথ চুক্তি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা সরকারি ক্রয়বিধি মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, টোল আদায়ের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় নজরদারি দুর্বল থাকায় অনিয়ম সহজ হয়েছে। মেঘনা-গোমতী সেতু দেশের অন্যতম ব্যস্ত টোলপ্লাজা হিসেবে পরিচিত। এখানে বছরে বিপুল পরিমাণ টোল আদায় হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রদর্শিত হিসাবের বাইরে আরও বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তার সব তথ্য সরকারি হিসাবে দেখানো হয়নি। ফলে প্রকৃত আদায় ও জমা দেওয়া অর্থের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকতে পারে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রেগনাম রিসোর্সেস তাদের ব্যবহৃত সফটওয়্যার থেকে যানবাহন চলাচল, টোল লেনদেন এবং সার্ভার লগের তথ্য মুছে ফেলেছে। এর মাধ্যমে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা জমা পড়েছে এবং কত টাকা অনিয়ম হয়েছে—সেসব তথ্য গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অনিয়ম শনাক্ত করতে দক্ষ নিরীক্ষা প্রয়োজন। তারা জানান, সাধারণ কাগজপত্র যাচাই করে এই ধরনের অনিয়ম ধরা কঠিন। কারণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা আংশিক প্রদর্শন করা সম্ভব। তাই নিরপেক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে সার্ভার, ডাটাবেজ এবং আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা জরুরি। তা না হলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শুধু মেঘনা-গোমতী নয়, দেশের আরও কয়েকটি টোলপ্লাজায় একই ধরনের অনিয়ম হতে পারে। সীতাকুণ্ড, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, চরসিন্দুর এবং কুমারখালী এলাকার কিছু টোলপ্লাজার নামও আলোচনায় এসেছে। এসব স্থানে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। সড়ক ও সেতু খাতের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টোল আদায়ের খাতে বহু বছর ধরেই কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ছিল। সরকার পরিবর্তন হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান আগের মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নীতিগত সংস্কার না হলে অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন হবে।

রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড কীভাবে কাজের দায়িত্ব পেয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে লিখিত কার্যাদেশ ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়েছে। আবার কোথাও মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে কার্যক্রম চলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তা প্রশাসনিক জবাবদিহির বড় প্রশ্ন তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা কাঠামো নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথিতে পরিবারভিত্তিক মালিকানা, শেয়ার বণ্টন এবং দায়িত্ব বণ্টনের তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন প্রতিনিধি পরে কথা বলার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে তাদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে টোল আদায় সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পূর্বে মেঘনা-গোমতী টোলপ্লাজা নিয়ে একটি মামলাও হয়েছে। সেই মামলায় আগের সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার নাম আসে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, কমিশনের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পেলে নতুন অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান শুরু করা হবে। রেগনাম রিসোর্সেস সম্পর্কেও বিভিন্ন দপ্তর থেকে অভিযোগ এসেছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, টোল আদায় খাত দেশের অবকাঠামো অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে স্বচ্ছতা না থাকলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তাই ডিজিটাল টোল ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদারকি, স্বয়ংক্রিয় নিরীক্ষা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

তারা আরও বলেন, প্রতিটি টোলপ্লাজার সরাসরি নজরদারি, তৃতীয় পক্ষ নিরীক্ষা এবং প্রকাশ্য হিসাব ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এতে জনগণের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শত শত কোটি টাকার টোল চুরি সংক্রান্ত এই অভিযোগ এখন জনমনে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে স্বাধীন তদন্ত, প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে। এখন নজর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের দিকে।