গাজীপুর জেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেটকারের চাপায় এক পোশাক শ্রমিক নিহতের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ওই শ্রমিকের নাম আব্দুল কুদ্দুস বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত আব্দুল কুদ্দুস রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেট পোশাক কারখানায় সহকারী কাটিংম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ভবানীপুর এলাকায় মহাসড়কের পশ্চিম পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
হঠাৎ মাওনা চৌরাস্তাগামী একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। কুদ্দুসের অকাল মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কুদ্দুসকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেটকারটি থামেনি বরং সামনে থাকা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা চালকসহ তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। ঘাতক প্রাইভেটকারটি এমনভাবে চালনা করা হচ্ছিল যেন চালকের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ঘাতক প্রাইভেটকারটি ধাওয়া করে আটক করতে সক্ষম হন। তবে সুযোগ বুঝে প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা পরবর্তীতে আটককৃত গাড়িটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ মহাসড়কে এই ধরণের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষী চালককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাবুর রহমান দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল কুদ্দুসের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
তিনি জানান যে, ঘাতক গাড়িটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং পলাতক চালককে খুঁজে বের করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মহাসড়কের এই বিশেষ স্থানটি পোশাক কারখানা সংলগ্ন হওয়ায় এখানে সবসময় শ্রমিকদের আনাগোনা বেশি থাকে। দ্রুতগতির যানবাহনগুলো অনেক সময় ট্রাফিক আইন অমান্য করে এবং শিল্প এলাকায় গতি কমানোর তোয়াক্কা করে না। এর ফলে বারবার সাধারণ শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয় অথবা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, এখানে গতিরোধক বা পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা অত্যন্ত জরুরি।
আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এই ধরণের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। হাইওয়েতে গাড়ির গতিসীমা নির্ধারণ এবং তা কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিশেষে, আব্দুল কুদ্দুসের মতো একজন শ্রমিকের প্রাণহানি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। সড়ক দুর্ঘটনায় এমন মৃত্যু রোধে চালকদের আরও বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়কের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনকে আরও জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
























