বাদাম লাচ্ছি একটি পুষ্টিকর ঠাণ্ডা পানীয় যা দই, দুধ ও বিভিন্ন ধরনের বাদাম দিয়ে তৈরি করা হয়। গরমের দিনে শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে এই পানীয় বেশ জনপ্রিয়। এতে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহৃত হওয়ায় এটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটের জন্যও উপযোগী।
বাদামে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ই, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং ত্বক ও স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে সাহায্য করে। তাই অনেকেই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বাদাম লাচ্ছি রাখতে পছন্দ করেন।
বাদাম লাচ্ছি তৈরির উপকরণ
- বাদাম – ১/২ কাপ
- টকদই – ১ কাপ
- ঘন দুধ – ২ কাপ
- কলা – ১টি
- বরফ কুঁচি – ২ টেবিল চামচ
- মধু – ৪ চা চামচ
- ভ্যানিলা অ্যাসেন্স – ২ ফোঁটা
এই উপকরণগুলো খুব সহজেই বাসায় পাওয়া যায়। তাই খুব অল্প সময়েই তৈরি করা সম্ভব এই স্বাস্থ্যকর পানীয়।
বাদাম লাচ্ছি তৈরির প্রণালী
প্রথমে কাজুবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তা বা আখরোটের যেকোনো একটি বা একাধিক বাদাম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এতে বাদাম নরম হবে এবং ব্লেন্ড করতে সুবিধা হবে।
এরপর একটি ব্লেন্ডার জগে ভেজানো বাদাম ও মধু দিয়ে প্রায় এক মিনিট ব্লেন্ড করুন। বাদাম খুব বেশি মিহি না হলেও সমস্যা নেই।
এরপর এতে টকদই, ঘন দুধ, কলা, বরফ কুঁচি এবং সামান্য ভ্যানিলা অ্যাসেন্স দিয়ে আবার ৩০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করুন। এতে একটি ক্রিমি ও মসৃণ মিশ্রণ তৈরি হবে।
যদি কেউ একটু পাতলা লাচ্ছি পছন্দ করেন, তাহলে এতে সামান্য ঠাণ্ডা পানি যোগ করতে পারেন। তবে একটু ঘন লাচ্ছি হলে এর স্বাদ আরও ভালো লাগে।
যদি ভ্যানিলা অ্যাসেন্স না থাকে, তাহলে সামান্য এলাচ গুঁড়ো ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি লাচ্ছিতে সুন্দর সুগন্ধ যোগ করে।
সবশেষে গ্লাসে ঢেলে উপরে বাদাম কুঁচি ও পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
বাদাম লাচ্ছির উপকারিতা
বাদাম লাচ্ছি শুধু স্বাদের জন্যই নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও বেশ উপকারী। এতে থাকা প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
বাদামে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া দই হজমশক্তি বাড়াতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
গরমের দিনে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং ক্লান্তি দূর করতে এই পানীয় খুবই কার্যকর।
পরিবেশন করার উপায়
ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা বাদাম লাচ্ছি পরিবেশন করলে এর স্বাদ আরও বাড়ে। পরিবেশনের সময় উপরে সামান্য বাদাম কুঁচি বা পুদিনা পাতা দিয়ে সাজানো যেতে পারে।
এই পানীয়টি সকালের নাস্তা, বিকেলের হালকা খাবার বা গরমের দিনে রিফ্রেশিং ড্রিংক হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।


























