বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পদত্যাগ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। পদোন্নতির দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৭২ জন শিক্ষক বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগকারী শিক্ষকদের মধ্যে ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর এবং প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা রয়েছেন। গত দুই দিন ধরে রেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। ফলে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে অনেক শিক্ষক পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করলেও এখনো কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকরা আন্দোলন শুরু করেন।
পরে প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও ৯ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভা থেকে প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষকরা আবারও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর অংশ হিসেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন।
ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল বাতেন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার মধ্যেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে। আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় অভিযোগ করেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।
শিক্ষকরা উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক বিষয়ে তারা আর উপাচার্যের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন না। তবে উপাচার্য বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করে আন্দোলন করা উচিত নয়।
উপাচার্যের দাবি, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন পদোন্নতি নীতিমালা চালু করেছে। সেই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিধি প্রণয়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হচ্ছে।
এদিকে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য মো. খলিল আহমেদ বলেছেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করেছে। কিন্তু বারিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে।
চলমান সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকায় তারা সেশনজটের আশঙ্কা করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।


























