ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন সিলেটে

বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন

সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিবের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা এবং গোলাপগঞ্জে দ্বিতীয় জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে সিলেট হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার ভোর রাত ৪টার দিকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মৃত্যুকালে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাজীবী জীবনের অসংখ্য সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও পরিবার-পরিজন রেখে গেছেন। সিলেটের আইন অঙ্গন ও বিএনপির রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও সক্রিয় মুখ। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

শুক্রবার বাদ জুম্মা হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে জড়ো হতে থাকেন। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইনজীবী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

প্রথম জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ গোলাপগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশার ইউনিয়নের মফজ্জিল আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ঢল নামে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব সিলেট জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেট ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

তিনি গোলাপগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আইন পেশায় তার সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব সহকর্মীদের মধ্যে বিশেষভাবে প্রশংসিত ছিল। অনেক তরুণ আইনজীবীর কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক ও পরামর্শদাতা।

বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। বিশেষ করে দলীয় নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে একত্রিত রাখতে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শোকবার্তায় তিনি বলেন, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের মৃত্যুতে বিএনপি একজন ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতাকে হারিয়েছে। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের আদর্শের প্রতি মুজিবুর রহমানের ছিল অগাধ বিশ্বাস। তিনি বিএনপির রাজনীতিকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নে তিনি সবসময় নিবেদিত ছিলেন।

শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মুজিবুর রহমান সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক দুঃসময়ে তিনি দলের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সিলেট জজ কোর্টের পিপি হিসেবে অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিয়েছেন। আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার দায়বদ্ধতা সহকর্মীদের কাছে প্রশংসিত ছিল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন নির্ভীক ও কর্মীবান্ধব নেতা। দলের প্রতিটি প্রয়োজনে তিনি সামনের সারিতে থেকে কাজ করেছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তার মৃত্যুতে সিলেট বিএনপি একজন পরীক্ষিত সংগঠককে হারিয়েছে। রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন আস্থার প্রতীক।

সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা দলকে অনেক শক্তিশালী করেছে। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবে না।

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীও পৃথক শোকবার্তা দিয়েছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। অনেকেই তাকে একজন সৎ, বিনয়ী ও জনবান্ধব মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মুজিবুর রহমান সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত নম্র ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়া অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নেতাকর্মীদের অনেকেই বলেন, তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতার অভাব সহজে পূরণ হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার মৃত্যু নিয়ে শোকের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইনজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার স্মৃতিচারণ করেন। অনেকে তার কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।

অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সংগঠক ও আইনজীবী হিসেবে তিনি সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। তার অবদান সিলেট বিএনপির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন সিলেটে

Update Time : ১১:২০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিবের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা এবং গোলাপগঞ্জে দ্বিতীয় জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে সিলেট হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার ভোর রাত ৪টার দিকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মৃত্যুকালে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাজীবী জীবনের অসংখ্য সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও পরিবার-পরিজন রেখে গেছেন। সিলেটের আইন অঙ্গন ও বিএনপির রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও সক্রিয় মুখ। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

শুক্রবার বাদ জুম্মা হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে জড়ো হতে থাকেন। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইনজীবী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

প্রথম জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ গোলাপগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন  হাম পরিস্থিতি: একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ

গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশার ইউনিয়নের মফজ্জিল আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ঢল নামে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব সিলেট জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেট ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।

তিনি গোলাপগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আইন পেশায় তার সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব সহকর্মীদের মধ্যে বিশেষভাবে প্রশংসিত ছিল। অনেক তরুণ আইনজীবীর কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক ও পরামর্শদাতা।

বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। বিশেষ করে দলীয় নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে একত্রিত রাখতে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে গেছেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শোকবার্তায় তিনি বলেন, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের মৃত্যুতে বিএনপি একজন ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতাকে হারিয়েছে। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় নতুন ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের আদর্শের প্রতি মুজিবুর রহমানের ছিল অগাধ বিশ্বাস। তিনি বিএনপির রাজনীতিকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নে তিনি সবসময় নিবেদিত ছিলেন।

শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মুজিবুর রহমান সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক দুঃসময়ে তিনি দলের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সিলেট জজ কোর্টের পিপি হিসেবে অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সততা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিয়েছেন। আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার দায়বদ্ধতা সহকর্মীদের কাছে প্রশংসিত ছিল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন নির্ভীক ও কর্মীবান্ধব নেতা। দলের প্রতিটি প্রয়োজনে তিনি সামনের সারিতে থেকে কাজ করেছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তার মৃত্যুতে সিলেট বিএনপি একজন পরীক্ষিত সংগঠককে হারিয়েছে। রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন আস্থার প্রতীক।

সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা দলকে অনেক শক্তিশালী করেছে। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবে না।

আরও পড়ুন  অর্থমন্ত্রী: অর্থনীতিতে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীও পৃথক শোকবার্তা দিয়েছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। অনেকেই তাকে একজন সৎ, বিনয়ী ও জনবান্ধব মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, মুজিবুর রহমান সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত নম্র ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়া অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা তাকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। নেতাকর্মীদের অনেকেই বলেন, তার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতার অভাব সহজে পূরণ হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার মৃত্যু নিয়ে শোকের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইনজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার স্মৃতিচারণ করেন। অনেকে তার কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।

অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক সংগঠক ও আইনজীবী হিসেবে তিনি সবার কাছে সম্মানিত ছিলেন। তার অবদান সিলেট বিএনপির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।