ব্লু মুন আজ রাতের আকাশে দেখা যেতে পারে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ খালি চোখেই উপভোগ করতে পারবেন এই বিশেষ পূর্ণিমা। জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের কাছে ব্লু মুন সবসময়ই একটি আকর্ষণীয় ঘটনা, কারণ এটি সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় অনেক কম দেখা যায়।
ব্লু মুন নাম শুনে অনেকেই মনে করেন চাঁদ হয়তো নীল রঙ ধারণ করবে। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। ব্লু মুনের সঙ্গে চাঁদের রঙের কোনো সম্পর্ক নেই। একই মাসে যখন দ্বিতীয়বার পূর্ণিমা দেখা যায়, তখন সেই পূর্ণিমাকে ব্লু মুন বলা হয়। এ কারণেই জ্যোতির্বিজ্ঞান জগতে এটি একটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে পরিচিত।
চলতি মাসের শুরুতেই একটি পূর্ণিমা হয়েছিল। আজকের পূর্ণিমাটি সেই মাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমা। ফলে এটি ব্লু মুন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। চন্দ্রচক্র এবং আমাদের ব্যবহৃত ক্যালেন্ডারের সময়ের মধ্যে সামান্য পার্থক্যের কারণেই কয়েক বছর পরপর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সাধারণভাবে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরার মাধ্যমে একটি বছর এবং নিজ অক্ষের ওপর ঘূর্ণনের মাধ্যমে একটি দিন নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে এবং সেই ঘূর্ণনচক্রের ওপর ভিত্তি করে একটি চন্দ্রমাস নির্ধারিত হয়। এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে সময়ের সূক্ষ্ম ব্যবধান জমতে জমতে একসময় অতিরিক্ত একটি পূর্ণিমার জন্ম দেয়। সেই অতিরিক্ত পূর্ণিমাই ব্লু মুন নামে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লু মুন কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ফল। তবে এর বিরলতা আকাশপ্রেমীদের কাছে একে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। অনেকেই ক্যামেরা, দূরবীন কিংবা টেলিস্কোপ নিয়ে এই দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আজকের ব্লু মুন পূর্ব আকাশে উদিত হবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সন্ধ্যার পর থেকেই এটি দেখা যেতে পারে। সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় চাঁদটিকে দিগন্তের কিছুটা কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যেতে পারে, যা পর্যবেক্ষকদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ব্লু মুনটি আজ রাতের আকাশে ভার্গো নক্ষত্রমণ্ডলের কাছাকাছি অবস্থান করবে। ফলে যারা নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে আগ্রহী, তারা একই সঙ্গে চাঁদ এবং নক্ষত্রমণ্ডলের অবস্থানও উপভোগ করতে পারবেন।
পূর্ণিমার চাঁদের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির সম্পর্ক বহু পুরোনো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পূর্ণিমার আলাদা নাম রয়েছে। যেমন ফেব্রুয়ারির পূর্ণিমাকে বলা হয় স্নো মুন, জুন মাসের পূর্ণিমা পরিচিত স্ট্রবেরি মুন নামে এবং ডিসেম্বরের পূর্ণিমাকে বলা হয় কোল্ড মুন। সেই ধারাবাহিকতায় ব্লু মুনও একটি পরিচিত নাম, যদিও এটি কোনো নির্দিষ্ট মাসের সঙ্গে যুক্ত নয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বছরে সাধারণত ১২টি পূর্ণিমা দেখা যায়। তবে ব্লু মুনের কারণে কোনো কোনো বছরে পূর্ণিমার সংখ্যা ১৩টিতেও পৌঁছাতে পারে। এ বছরও সেই বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব।
যারা ব্লু মুন দেখতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে শহরের অতিরিক্ত আলোকদূষণ থেকে কিছুটা দূরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা। এতে চাঁদের সৌন্দর্য আরও স্পষ্টভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজকের রাতটি আকাশপ্রেমীদের জন্য হতে পারে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।
মহাবিশ্বের অসংখ্য বিস্ময়ের মধ্যে ব্লু মুন একটি ছোট কিন্তু আকর্ষণীয় ঘটনা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতি ও মহাকাশের প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে নির্ভুল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। আর সেই ব্যাখ্যার মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিস্ময়, সৌন্দর্য এবং জানার নতুন আগ্রহ।






















