খলিলুর রহমান ইউএনজিএ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে ফিরে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ার বিষয়ে তাড়াহুড়া করার কিছু নেই। তিনি জানান, অতীতে একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালনের নজির রয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দেখেছে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও ইউএনজিএ সভাপতি হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ তুলে ধরেন। খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৮৬-৮৭ সালে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি থাকাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। সে সময় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে গত ১৩ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক সংলাপে খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, ইউএনজিএ সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি এক বছরের ছুটিতে যেতে পারেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য পদত্যাগই একমাত্র পথ নয় এবং প্রয়োজন হলে ছুটি নিয়ে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির নির্বাচনে খলিলুর রহমান গোপন ব্যালটে জয় লাভ করেন। নির্বাচনে তিনি ৯৯ ভোট পান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোট পড়েছিল এবং কোনো ভোট বাতিল বা বিরত ছিল না। তিনটি দেশ ভোটদানে অংশ নেয়নি।
চার দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশে ফিরে খলিলুর রহমান এই বিজয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, খলিলুর রহমান ইউএনজিএ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তাঁর এই নির্বাচন বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


























