ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য Logo ব্রাজিলের খারাপ সময়ও অনেক দলের সেরা সময়ের চেয়ে বড় Logo জুলাইয়ের আহতদের পাশে প্রশাসন, পুনর্বাসনের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের Logo তারকা জুটির বিলাসবহুল বিয়ে ঘিরে ক্ষোভ, ইতালির শহরে প্রতিবাদে নামলেন বাসিন্দারা Logo স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায়, আপিলে শুনানি কাল Logo ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ: নতুন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় উত্তেজনা Logo ব্রাজিলকে ৭ গোল দেওয়া দেশগুলো: বিশ্ব ফুটবলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড Logo কাজী শায়রুল হাসান চেয়ারম্যান: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন নেতৃত্বের শক্তিশালী সূচনা Logo গরমেও কেন ঠান্ডা লেগে যায় ; কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন Logo শাবনূরকে নিয়ে আবেগঘন বার্তায় মুগ্ধ করলেন পূর্ণিমা

ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তি নিয়ে অনড় ট্রাম্প, চুক্তি না হলে মিলবে না অর্থ

ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। | ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তি নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করা হবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মিট দ্য প্রেস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তির বিষয়টি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের অংশ নয়; বরং যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতির ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে পরবর্তী আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।

অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা তাদের সম্পদের একটি অংশ অবমুক্ত করা উচিত। তেহরানের মতে, জব্দ থাকা অর্থের অন্তত একটি অংশ মুক্তি না দিলে কোনো স্থায়ী সমঝোতা চুক্তি কার্যকর করা কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি ও অর্থ ছাড় দুই ইস্যুতেই আলোচনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ জব্দ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব সম্পদ ধীরে ধীরে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান আলোচনায় তেহরান ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে অর্ধেক অর্থ ছাড় এবং বাকি অর্থ পরবর্তী ধাপে অবমুক্ত করা হবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী জানিয়েছেন, আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অচলাবস্থা বিদ্যমান।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

তবে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় একটি সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, নয়তো পরিস্থিতি আরও বড় সামরিক সংঘাতের দিকে যেতে পারে। ফলে ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য

ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তি নিয়ে অনড় ট্রাম্প, চুক্তি না হলে মিলবে না অর্থ

Update Time : ০১:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তি নিয়ে নতুন করে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করা হবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মিট দ্য প্রেস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তির বিষয়টি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের অংশ নয়; বরং যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতির ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে পরবর্তী আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।

আরও পড়ুন  কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন, রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

অন্যদিকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা তাদের সম্পদের একটি অংশ অবমুক্ত করা উচিত। তেহরানের মতে, জব্দ থাকা অর্থের অন্তত একটি অংশ মুক্তি না দিলে কোনো স্থায়ী সমঝোতা চুক্তি কার্যকর করা কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি ও অর্থ ছাড় দুই ইস্যুতেই আলোচনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন  নিউইয়র্কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, তিন বাংলাদেশিসহ নিহত ৪

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ জব্দ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব সম্পদ ধীরে ধীরে ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান আলোচনায় তেহরান ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে অর্ধেক অর্থ ছাড় এবং বাকি অর্থ পরবর্তী ধাপে অবমুক্ত করা হবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী জানিয়েছেন, আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অচলাবস্থা বিদ্যমান।

আরও পড়ুন  যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও অস্বস্তিতে নেতানিয়াহু, ইসরায়েলে ভিন্নমত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

তবে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় একটি সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, নয়তো পরিস্থিতি আরও বড় সামরিক সংঘাতের দিকে যেতে পারে। ফলে ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।