ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী Logo ৭১১ কোটি রুপিতে পুরো আবাসিক টাওয়ার কিনলেন দীনেশ ঠক্কর Logo উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা বাড়ানোর সুপারিশ Logo ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা Logo কাজিপুরে আফজাল হোসেন স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল গাজীপুর Logo উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা Logo ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি Logo আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ নিয়ে হামজা বললেন, ‘কাউকে ভয় পেতে আসিনি’ Logo নার্সিং কর্মীদের পদোন্নতির প্রস্তুতি শুরু, কাগজ জমার শেষ সময় জানাল অধিদপ্তর

এভারেস্ট অভিযান: মৃত্যুঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের পতাকা তুললেন নুরুননাহার নিম্নি

এভারেস্ট অভিযানে নুরুননাহার নিম্নি। ছবি: সংগৃহীত

এভারেস্ট অভিযান ২০২৬: বাংলাদেশের পর্বতারোহী নুরুননাহার নিম্নি তীব্র তুষারঝড়, ভাঙা ক্র্যাম্পন এবং মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ খাড়া ঢাল পেরিয়ে ২৭ মে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পা রাখা তৃতীয় বাংলাদেশি নারী। অভিযানের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।

নিম্নি জানান, প্রথমবার খারাপ আবহাওয়ার কারণে ক্যাম্প ৩ থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তিনি ক্যাম্প ২ থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে ক্যাম্প ৩ এবং পরে ক্যাম্প ৪-এ পৌঁছান। ক্যাম্প ৩-এর পথে বরফের দেয়াল বেয়ে উঠতে হয়েছে জুমার ও ক্র্যাম্পনের সাহায্যে। উচ্চতার কারণে প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল কঠিন, তবে তার গতি দেখে গাইডরা আশাবাদী ছিলেন যে সামিট সম্ভব হবে।

ক্যাম্প ৩-এ পৌঁছানোর পর শুরু হয় তীব্র তুষারপাত। ছোট তাঁবুর ভেতরে সীমিত খাবার, অক্সিজেন মাস্ক ও ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করেই কাটে সময়। পরদিন ক্যাম্প ৪-এর পথে পুরোটা ছিল খাড়া চড়াই। ডেথ জোনে অবস্থিত ক্যাম্প ৪-এ পৌঁছে তিনি দেখতে পান ঝড়ে ছিঁড়ে যাওয়া তাঁবু ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরঞ্জাম।

এভারেস্ট অভিযান
এভারেস্ট অভিযানে নুরুননাহার নিম্নি সামিটের পথে

সামিট পুশের জন্য সন্ধ্যায় ক্যাম্প ৪ থেকে যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে আবহাওয়া ভালো থাকলেও পরে প্রবল বাতাস ও তুষারঝড় দেখা দেয়। ঠিক তখনই ঘটে বড় বিপত্তি তার বাঁ পায়ের ক্র্যাম্পন ছিঁড়ে যায়। প্রায় ৪০০ মিটার সামনে এভারেস্ট শিখর, আর তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক ভয়ংকর খাড়া ঢালে। বাতাসের গর্জনে গাইডের ডাকও পৌঁছাচ্ছিল না। পরে গাইড দাওয়া এসে দড়ি দিয়ে ক্র্যাম্পন বেঁধে দেন এবং আরেক গাইড লাকপা নিজের স্নো গগলস তাকে দেন।

সেই সহায়তার পর আবারও এগিয়ে চলেন নিম্নি। বরফের দেয়াল, তীব্র ঠান্ডা এবং অক্সিজেন-স্বল্প পরিবেশ পেরিয়ে তিনি পৌঁছান হিলারি স্টেপে। সেখান থেকে শিখর ছিল মাত্র ৬০ মিটার দূরে। সূর্যোদয়ের আলোয় আকাশ রক্তিম হয়ে উঠলে তিনি শেষ অংশটুকু অতিক্রম করেন।

অবশেষে এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করেন নুরুননাহার নিম্নি। বহু দিনের প্রস্তুতি, শারীরিক ও মানসিক সংগ্রাম এবং অসংখ্য ঝুঁকি পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে তুলে ধরেন। তার এই সাফল্য বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

এভারেস্ট অভিযান: মৃত্যুঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের পতাকা তুললেন নুরুননাহার নিম্নি

Update Time : ১২:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

এভারেস্ট অভিযান ২০২৬: বাংলাদেশের পর্বতারোহী নুরুননাহার নিম্নি তীব্র তুষারঝড়, ভাঙা ক্র্যাম্পন এবং মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ খাড়া ঢাল পেরিয়ে ২৭ মে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পা রাখা তৃতীয় বাংলাদেশি নারী। অভিযানের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।

নিম্নি জানান, প্রথমবার খারাপ আবহাওয়ার কারণে ক্যাম্প ৩ থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তিনি ক্যাম্প ২ থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে ক্যাম্প ৩ এবং পরে ক্যাম্প ৪-এ পৌঁছান। ক্যাম্প ৩-এর পথে বরফের দেয়াল বেয়ে উঠতে হয়েছে জুমার ও ক্র্যাম্পনের সাহায্যে। উচ্চতার কারণে প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল কঠিন, তবে তার গতি দেখে গাইডরা আশাবাদী ছিলেন যে সামিট সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন  সুন্দরবন খুলেছে, ভ্রমণের আগে জেনে নিন জরুরি ১০ তথ্য

ক্যাম্প ৩-এ পৌঁছানোর পর শুরু হয় তীব্র তুষারপাত। ছোট তাঁবুর ভেতরে সীমিত খাবার, অক্সিজেন মাস্ক ও ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করেই কাটে সময়। পরদিন ক্যাম্প ৪-এর পথে পুরোটা ছিল খাড়া চড়াই। ডেথ জোনে অবস্থিত ক্যাম্প ৪-এ পৌঁছে তিনি দেখতে পান ঝড়ে ছিঁড়ে যাওয়া তাঁবু ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরঞ্জাম।

এভারেস্ট অভিযান
এভারেস্ট অভিযানে নুরুননাহার নিম্নি সামিটের পথে

সামিট পুশের জন্য সন্ধ্যায় ক্যাম্প ৪ থেকে যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে আবহাওয়া ভালো থাকলেও পরে প্রবল বাতাস ও তুষারঝড় দেখা দেয়। ঠিক তখনই ঘটে বড় বিপত্তি তার বাঁ পায়ের ক্র্যাম্পন ছিঁড়ে যায়। প্রায় ৪০০ মিটার সামনে এভারেস্ট শিখর, আর তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক ভয়ংকর খাড়া ঢালে। বাতাসের গর্জনে গাইডের ডাকও পৌঁছাচ্ছিল না। পরে গাইড দাওয়া এসে দড়ি দিয়ে ক্র্যাম্পন বেঁধে দেন এবং আরেক গাইড লাকপা নিজের স্নো গগলস তাকে দেন।

আরও পড়ুন  শেনজেন ভিসা নির্দেশনা: ভ্রমণকারীদের জন্য দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

সেই সহায়তার পর আবারও এগিয়ে চলেন নিম্নি। বরফের দেয়াল, তীব্র ঠান্ডা এবং অক্সিজেন-স্বল্প পরিবেশ পেরিয়ে তিনি পৌঁছান হিলারি স্টেপে। সেখান থেকে শিখর ছিল মাত্র ৬০ মিটার দূরে। সূর্যোদয়ের আলোয় আকাশ রক্তিম হয়ে উঠলে তিনি শেষ অংশটুকু অতিক্রম করেন।

অবশেষে এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করেন নুরুননাহার নিম্নি। বহু দিনের প্রস্তুতি, শারীরিক ও মানসিক সংগ্রাম এবং অসংখ্য ঝুঁকি পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে তুলে ধরেন। তার এই সাফল্য বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।