পরীক্ষার ফি বাতিল করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে আর কোনো অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না। এতে অভিভাবকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ কমবে।
সম্প্রতি অর্থ বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণিতে ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ টাকা ফি নির্ধারণের কথা ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের শিক্ষা গ্রহণ সহজ করা। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার জন্য আলাদা অর্থ নেওয়া সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে পরীক্ষার ফি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইউনিফর্ম প্রদান, মিড-ডে মিল সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা খাতে পরিবারের ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আরও নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার ফি বাতিল শুধু আর্থিক সুবিধাই নয়, এটি অবৈতনিক শিক্ষার সাংবিধানিক ও নীতিগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবে।
বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, পরীক্ষার ফি বাতিল প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলবে।






















