হাঁটু প্রতিস্থাপন বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম সফল অস্ত্রোপচার হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘদিনের হাঁটুর ব্যথা, ফোলা এবং চলাফেরায় অস্বস্তিতে ভোগা রোগীদের জন্য এটি অনেক সময় নতুন জীবনের সুযোগ তৈরি করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন ওষুধ, ব্যায়াম কিংবা ফিজিওথেরাপি পর্যাপ্ত উপকার দিতে ব্যর্থ হয়, তখন হাঁটু প্রতিস্থাপন সার্জারি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
হাঁটুতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাড়ের বিকৃতি অথবা দুর্ঘটনাজনিত আঘাত। এসব কারণে হাঁটুর জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগীর স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় বসা, দাঁড়ানো কিংবা সিঁড়ি ওঠানামার মতো সাধারণ কাজও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।
হাঁটু প্রতিস্থাপন সার্জারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাঁটুর অংশ অপসারণ করে সেখানে বিশেষ ধরনের কৃত্রিম জয়েন্ট বা ইমপ্ল্যান্ট বসানো হয়। এর ফলে হাঁটুর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার হয় এবং ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও সফলতার সঙ্গে এই অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হাঁটুতে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দেয়, হাঁটাচলায় মারাত্মক সমস্যা হয় অথবা ওষুধ ও ফিজিওথেরাপিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া যায়, তাহলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া হাঁটু বেঁকে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে শক্ত হয়ে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাঁটু প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
এই অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া। বেশিরভাগ রোগী অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন। অনেকেই পুনরায় সক্রিয় ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হন।
আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হাঁটু প্রতিস্থাপনের ইমপ্ল্যান্ট সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি সময় কার্যকর থাকতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ রোগী অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় ব্যথামুক্ত জীবনযাপন করতে পারেন। এমনকি অধিকাংশ রোগী অস্ত্রোপচারের একদিন পর থেকেই সম্পূর্ণ ভর দিয়ে হাঁটাচলা শুরু করতে সক্ষম হন।
তবে হাঁটু প্রতিস্থাপন সার্জারির কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকিও রয়েছে। অ্যানেসথেসিয়া-সংক্রান্ত জটিলতা, পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা, ফুসফুসে রক্ত জমাট পৌঁছে পালমোনারি এম্বোলিজমের মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া অস্ত্রোপচারের স্থানে সংক্রমণ, ইমপ্ল্যান্টের চারপাশের হাড়ে ফাটল, হাঁটুর ক্যাপের স্থানচ্যুতি কিংবা আশপাশের স্নায়ু ও লিগামেন্টের ক্ষতির মতো ঝুঁকিও থেকে যায়।
তবে অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনের তত্ত্বাবধানে এবং সঠিক পরবর্তী পরিচর্যার মাধ্যমে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই হাঁটুর দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাঁটু প্রতিস্থাপন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।




























