ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে গালফ এয়ারলাইনসের নতুন অগ্রগতি Logo বিশ্বকাপে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে ক্ষুব্ধ তেহরান Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন রুখে দিল বিজিবি, আটক ২০ জন Logo Gen Z-এর নতুন ডেটিং স্টাইল: কম খরচে বেশি কানেকশন Logo শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের সামনে কঠিন সমীকরণ, কী করলে হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন? Logo ৩০ মৃত্যুর ঘটনায় কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র Logo প্যারাগুয়ের কাছে তুরস্কের হার, ১০ জন নিয়েও জয় Logo বিশ্বকাপে ভিনিসিয়াসের জাদু, হাইতিকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল Logo মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে বড় সুবিধায় ইরানি গার্ডের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য Logo ফিফা বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচ, ইতিহাসের নতুন মাইলফলক

কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার, মামলার পর সন্তানসহ বাড়িছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করার পর নিরাপত্তাহীনতায় সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।ছবি: সংগৃহীত

একটি কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুরো পরিবারকে বাড়িছাড়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিচার চাওয়ার অপরাধে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি এবং সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ আগে ওই কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, ঘটনার পর ন্যায়বিচারের আশায় তারা পুলিশের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এরপর থেকেই তাদের ওপর শুরু হয় ভয়ভীতি প্রদর্শন। বাড়িতে গিয়ে আপসের জন্য চাপ দেওয়া, মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি এবং সামাজিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু মেয়ের জন্য বিচার চেয়েছি। কিন্তু এখন নিজেরাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি। সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকতে পারছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি।”

এদিকে শিশুটির মা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা সীমিত হয়ে গেছে। শিশু এখনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে যথাযথ সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা জানান, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় অনেক পরিবার বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো নানা হয়রানির শিকার হয়। ফলে অনেকেই ভয় বা সামাজিক চাপে মামলা করতে চান না। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ মামলার সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মামলা দায়েরের পর যদি কোনো পক্ষ ভয়ভীতি বা চাপ সৃষ্টি করে, তবে সেটিও আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, যৌন সহিংসতার শিকার শিশুদের জন্য শুধু আইনি সহায়তা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সহায়তা। কারণ এ ধরনের ঘটনা শিশুর মানসিক বিকাশ, শিক্ষা এবং সামাজিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক চাপ, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে কঠিন করে তোলে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ধর্ষণের শিকার শিশুদের পরিচয় গোপন রাখা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশও ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে পরিবারটি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। তারা চান, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুক এবং যেন আবার নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফিরতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সহমর্মী আচরণ করা সমাজের প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।

ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আজও দিন গুনছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের একটাই দাবি—অপরাধীদের শাস্তি হোক এবং কোনো পরিবার যেন বিচার চাওয়ার কারণে বাড়িছাড়া হতে না হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে গালফ এয়ারলাইনসের নতুন অগ্রগতি

কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার, মামলার পর সন্তানসহ বাড়িছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

Update Time : ০৯:০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

একটি কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুরো পরিবারকে বাড়িছাড়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিচার চাওয়ার অপরাধে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি এবং সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহ আগে ওই কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা জানান, ঘটনার পর ন্যায়বিচারের আশায় তারা পুলিশের শরণাপন্ন হন। কিন্তু এরপর থেকেই তাদের ওপর শুরু হয় ভয়ভীতি প্রদর্শন। বাড়িতে গিয়ে আপসের জন্য চাপ দেওয়া, মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি এবং সামাজিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন  ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ফরিদপুরে বিধবাকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু মেয়ের জন্য বিচার চেয়েছি। কিন্তু এখন নিজেরাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি। সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকতে পারছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি।”

এদিকে শিশুটির মা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা সীমিত হয়ে গেছে। শিশু এখনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে যথাযথ সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা জানান, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় অনেক পরিবার বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো নানা হয়রানির শিকার হয়। ফলে অনেকেই ভয় বা সামাজিক চাপে মামলা করতে চান না। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ মামলার সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মামলা দায়েরের পর যদি কোনো পক্ষ ভয়ভীতি বা চাপ সৃষ্টি করে, তবে সেটিও আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরও পড়ুন  সোনারগাঁয়ে অভিযানে ‘কাইল্লা রক্সি’ গ্রেপ্তার

স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, যৌন সহিংসতার শিকার শিশুদের জন্য শুধু আইনি সহায়তা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সহায়তা। কারণ এ ধরনের ঘটনা শিশুর মানসিক বিকাশ, শিক্ষা এবং সামাজিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক চাপ, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে কঠিন করে তোলে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ধর্ষণের শিকার শিশুদের পরিচয় গোপন রাখা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন  নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ভোলায় অভিযান, ট্রাকভর্তি ইলিশ জব্দ

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশও ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে পরিবারটি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। তারা চান, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুক এবং যেন আবার নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফিরতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সহমর্মী আচরণ করা সমাজের প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।

ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আজও দিন গুনছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের একটাই দাবি—অপরাধীদের শাস্তি হোক এবং কোনো পরিবার যেন বিচার চাওয়ার কারণে বাড়িছাড়া হতে না হয়।