২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় কম অর্থ হাতে পাবেন, যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাব অনুযায়ী, মুনাফা উত্তোলনের সময় ১০ শতাংশ হারে কর কেটে রাখা হবে। তবে সরকার বলছে, এটি চূড়ান্ত কর নয়। বছর শেষে প্রকৃত কর দায়ের চেয়ে বেশি অর্থ কাটা হলে তা ফেরত পাওয়া যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে তাদের ওপর, যারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকার ওপর নির্ভর করে সংসার চালান। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও স্থায়ী আয়ের বাইরে থাকা পরিবারগুলো বাড়তি চাপে পড়তে পারেন।
বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এসব সঞ্চয়পত্রে সুদের হার প্রায় ১১ দশমিক ৭৭ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি এক লাখ টাকার মুনাফা থেকে আগের তুলনায় বেশি কর কাটা হবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মাসিক হাতে পাওয়া অর্থ কমে যাবে। এতে অনেকেই সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তে অন্য বিনিয়োগ খাতের কথা ভাবতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, মুনাফা কমে গেলে মানুষ ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের লাভের তুলনা করবে। সঞ্চয়পত্রের আকর্ষণ কমে গেলে কিছু বিনিয়োগকারী ব্যাংকমুখী হতে পারেন।
তবে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, কর বাড়লেও সঞ্চয়পত্রের জনপ্রিয়তা খুব বেশি কমবে না। কারণ ব্যাংক খাতে এখনো আস্থার সংকট রয়েছে এবং অনেকের কাছে সঞ্চয়পত্রই সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম।
সরকারের দাবি, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর বৃদ্ধির ফলে লাখো বিনিয়োগকারীর হাতে পাওয়া আয় কমবে। তবে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র এখনো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জনপ্রিয় থাকবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।




























