ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ম্রুণাল ঠাকুরের কঠোর সতর্কবার্তা: AI ডিপফেক অপব্যবহারে আইনি ব্যবস্থা Logo রিজভীর বিস্ফোরক দাবি: জনগণের পারমাণবিক শক্তিতে ফ্যাসিবাদের পতন Logo বিপজ্জনক গ্রহাণু প্রতিরোধ: বিজ্ঞানীদের শক্তিশালী নতুন পরিকল্পনা Logo টানা দুই সপ্তাহ নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে Logo টেলিগ্রাম অ্যাপ স্টোর: হঠাৎ উধাও, অবশেষে সামনে এলো বড় কারণ? Logo উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ: বাধা দূর, উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান Logo বিজিএমইএ-বিটিএমএ একসঙ্গে, ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য Logo কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকের বেশি কমল, আমদানিতে মিলল স্বস্তি Logo নোরা ফাতেহি বোনো সম্পর্ক: অবশেষে প্রেমের গুঞ্জনে স্পষ্ট জবাব দিলেন অভিনেত্রী Logo প্রবাসী আয় বেড়ে ৩ দিনে ৪ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ৮৪%

বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তারা কেন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন

বিশ্বজুড়ে উদ্যোক্তারা দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে উদ্যোক্তারা এখন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে শুধু ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, বরং একটি কৌশলগত ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং নিয়মকানুনের পরিবর্তনের মধ্যে এটি তাদের জন্য একটি নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার মাধ্যম হয়ে উঠছে। ফলে দ্বিতীয় পাসপোর্ট এখন সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্যোক্তারা এখন যেভাবে আয়ের উৎস বা বিনিয়োগকে বৈচিত্র্যময় করেন, ঠিক একইভাবে তারা নাগরিকত্বকেও বৈচিত্র্যময় করার দিকে ঝুঁকছেন। একটি দ্বিতীয় নাগরিকত্ব তাদের ভিসা ছাড়াই বিভিন্ন দেশে যাতায়াত, দ্রুত ব্যবসায়িক বৈঠক এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।

বিশ্বব্যাপী ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সময় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দ্বিতীয় পাসপোর্ট থাকলে উদ্যোক্তারা ভ্রমণ জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে আন্তর্জাতিক চুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব গঠনের গতি অনেক বেড়ে যায়।

একই সঙ্গে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক দেশের নাগরিকত্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং আর্থিক যাচাই প্রক্রিয়াকে সহজ বা কঠিন করে দেয়। তাই উদ্যোক্তারা তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ বা শক্তিশালী পাসপোর্ট বেছে নিচ্ছেন।

বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে গেছে। করনীতি পরিবর্তন, পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রণ বা হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা—সবকিছুই উদ্যোক্তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্বিতীয় নাগরিকত্ব সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করছে।

অনেক উদ্যোক্তা এখন তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই নাগরিকত্ব গ্রহণ করছেন। এটি কেবল দেশ পরিবর্তনের সুযোগ নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানান্তরের একটি কৌশলও প্রদান করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক নাগরিকত্ব-বিনিয়োগ (citizenship by investment) প্রোগ্রামগুলো এখন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এটি কেবল ধনীদের সুবিধা নয়, বরং বৈধ ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক অবদানকারীদের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা।

অনেক প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসার বড় সাফল্যের পর তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাচ্ছেন। তারা এখন শুধু ব্যবসার বৃদ্ধি নয়, বরং সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবার নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

এ পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার মানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দ্বিতীয় নাগরিকত্ব তাদের সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

সমালোচকরা যদিও এই প্রবণতাকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সুবিধা কেনাকাটা হিসেবে দেখেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক দেশই বিদেশি বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবী আকৃষ্ট করতে এ ধরনের প্রোগ্রাম চালু করেছে।

বিশ্বজুড়ে এখন নিয়ম-কানুন আরও কঠোর হচ্ছে, এবং অনেক দেশের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে। ফলে উদ্যোক্তারা আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে সীমিত সুযোগের কারণে সমস্যায় না পড়তে হয়।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, উদ্যোক্তাদের কাছে দ্বিতীয় নাগরিকত্ব এখন আর বিলাসিতা নয়। এটি তাদের ব্যবসা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশে পরিণত হয়েছে।

ম্রুণাল ঠাকুরের কঠোর সতর্কবার্তা: AI ডিপফেক অপব্যবহারে আইনি ব্যবস্থা

বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তারা কেন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন

Update Time : ০১:২৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে উদ্যোক্তারা এখন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে শুধু ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, বরং একটি কৌশলগত ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং নিয়মকানুনের পরিবর্তনের মধ্যে এটি তাদের জন্য একটি নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার মাধ্যম হয়ে উঠছে। ফলে দ্বিতীয় পাসপোর্ট এখন সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্যোক্তারা এখন যেভাবে আয়ের উৎস বা বিনিয়োগকে বৈচিত্র্যময় করেন, ঠিক একইভাবে তারা নাগরিকত্বকেও বৈচিত্র্যময় করার দিকে ঝুঁকছেন। একটি দ্বিতীয় নাগরিকত্ব তাদের ভিসা ছাড়াই বিভিন্ন দেশে যাতায়াত, দ্রুত ব্যবসায়িক বৈঠক এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে।

বিশ্বব্যাপী ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সময় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দ্বিতীয় পাসপোর্ট থাকলে উদ্যোক্তারা ভ্রমণ জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে আন্তর্জাতিক চুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব গঠনের গতি অনেক বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন  ২৫০ বছরে কেন এত বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র? ট্রাম্প কি মূল কারণ?

একই সঙ্গে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক দেশের নাগরিকত্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং আর্থিক যাচাই প্রক্রিয়াকে সহজ বা কঠিন করে দেয়। তাই উদ্যোক্তারা তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ বা শক্তিশালী পাসপোর্ট বেছে নিচ্ছেন।

বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে গেছে। করনীতি পরিবর্তন, পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রণ বা হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা—সবকিছুই উদ্যোক্তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্বিতীয় নাগরিকত্ব সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করছে।

অনেক উদ্যোক্তা এখন তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই নাগরিকত্ব গ্রহণ করছেন। এটি কেবল দেশ পরিবর্তনের সুযোগ নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানান্তরের একটি কৌশলও প্রদান করে।

আরও পড়ুন  মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক নাগরিকত্ব-বিনিয়োগ (citizenship by investment) প্রোগ্রামগুলো এখন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এটি কেবল ধনীদের সুবিধা নয়, বরং বৈধ ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক অবদানকারীদের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা।

অনেক প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসার বড় সাফল্যের পর তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুনভাবে সাজাচ্ছেন। তারা এখন শুধু ব্যবসার বৃদ্ধি নয়, বরং সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবার নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

এ পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার মানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দ্বিতীয় নাগরিকত্ব তাদের সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

আরও পড়ুন  এশিয়া প্রেস্টিজ সিইও এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইলেকট্রো মার্টের নুরুল আফছার

সমালোচকরা যদিও এই প্রবণতাকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সুবিধা কেনাকাটা হিসেবে দেখেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক দেশই বিদেশি বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবী আকৃষ্ট করতে এ ধরনের প্রোগ্রাম চালু করেছে।

বিশ্বজুড়ে এখন নিয়ম-কানুন আরও কঠোর হচ্ছে, এবং অনেক দেশের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে। ফলে উদ্যোক্তারা আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে সীমিত সুযোগের কারণে সমস্যায় না পড়তে হয়।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, উদ্যোক্তাদের কাছে দ্বিতীয় নাগরিকত্ব এখন আর বিলাসিতা নয়। এটি তাদের ব্যবসা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশে পরিণত হয়েছে।