ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগ করছেন কিয়ার স্টারমার? কী হবে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে?

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-কে ঘিরে পদত্যাগের জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী সোমবারের মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে পারেন। যদিও সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, স্টারমার এখনো দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ মনোযোগী এবং পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে গত সপ্তাহে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। বিরোধী অবস্থান থেকে নয়, বরং নিজ দল Labour Party-এর ভেতর থেকেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয় যে তাঁর নেতৃত্ব হয়তো দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার খুব শিগগিরই পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি নিজের সরকারি বাসভবন চ্যাকার্সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। যদিও এই তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।

সরকারি সূত্রগুলো অবশ্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এখনো দায়িত্ব পালনে সক্রিয় রয়েছেন এবং সরকারের চলমান নীতিগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন। তারা মনে করছে, রাজনৈতিক গুঞ্জন বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি আলোচিত হচ্ছে।

স্টারমার নিজেও সম্প্রতি সাংবাদিকদের সামনে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন স্টারমার। দীর্ঘ সময় পর লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বাস্তব পরিস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কঠিন হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক চাপ, করনীতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন ধীরগতির হওয়ায় জনপ্রিয়তায় ধস নামে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির শতাধিক সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অনেকেই নেতৃত্বে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলের ভেতরের এই চাপ স্টারমারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক সময় দলীয় বিদ্রোহই প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের কারণ হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

এদিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন Andy Burnham। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক সাফল্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যদিও বার্নহাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ জানাননি, তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, স্টারমার সরে দাঁড়ালে নেতৃত্বের দৌড়ে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্নহামের শক্তিশালী জনসমর্থন এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে সম্ভাব্য নেতা হিসেবে এগিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে দলের তরুণ অংশের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী Wes Streeting-এর নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের তালিকায় উঠে এসেছে। যদিও তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানাননি, তবুও রাজনৈতিক মহলে তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।

দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্নহাম নেতৃত্বে এলে অর্থনৈতিক নীতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান অর্থমন্ত্রী Rachel Reeves-এর অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। গত এক দশকে দেশটি একাধিক প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে স্টারমার পদত্যাগ করলে তা হবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি বড় উদাহরণ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্টারমারের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি হয় নেতৃত্ব ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন, অথবা দলীয় চাপের মুখে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোন পথ তিনি বেছে নেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই বিষয়টি ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ফোরামে স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, সোমবারের ঘোষণাই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়নি এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকেও এ ধরনের কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন যতই বাড়ুক না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। কিয়ার স্টারমার তাঁর অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন কি না, নাকি নেতৃত্বে আসবে নতুন মুখ—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। সোমবারকে ঘিরে তাই দেশটির রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ও কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ করছেন কিয়ার স্টারমার? কী হবে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে?

Update Time : ০৯:০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-কে ঘিরে পদত্যাগের জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী সোমবারের মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে পারেন। যদিও সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, স্টারমার এখনো দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ মনোযোগী এবং পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে গত সপ্তাহে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। বিরোধী অবস্থান থেকে নয়, বরং নিজ দল Labour Party-এর ভেতর থেকেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয় যে তাঁর নেতৃত্ব হয়তো দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার খুব শিগগিরই পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি নিজের সরকারি বাসভবন চ্যাকার্সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। যদিও এই তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।

সরকারি সূত্রগুলো অবশ্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এখনো দায়িত্ব পালনে সক্রিয় রয়েছেন এবং সরকারের চলমান নীতিগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন। তারা মনে করছে, রাজনৈতিক গুঞ্জন বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি আলোচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ইরান আলোচনার শর্ত: নৌ অবরোধ না উঠলে অনড় তেহরান

স্টারমার নিজেও সম্প্রতি সাংবাদিকদের সামনে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন স্টারমার। দীর্ঘ সময় পর লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বাস্তব পরিস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কঠিন হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক চাপ, করনীতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন ধীরগতির হওয়ায় জনপ্রিয়তায় ধস নামে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির শতাধিক সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অনেকেই নেতৃত্বে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলের ভেতরের এই চাপ স্টারমারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক সময় দলীয় বিদ্রোহই প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের কারণ হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

আরও পড়ুন  নাসার আর্টেমিস-২ মিশন থেকে চাঁদের হাই-রেজোলিউশন ছবি প্রকাশ

এদিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন Andy Burnham। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা অনেক দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তাঁর রাজনৈতিক সাফল্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যদিও বার্নহাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ জানাননি, তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, স্টারমার সরে দাঁড়ালে নেতৃত্বের দৌড়ে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বার্নহামের শক্তিশালী জনসমর্থন এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে সম্ভাব্য নেতা হিসেবে এগিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে দলের তরুণ অংশের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

অন্যদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী Wes Streeting-এর নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের তালিকায় উঠে এসেছে। যদিও তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানাননি, তবুও রাজনৈতিক মহলে তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।

দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্নহাম নেতৃত্বে এলে অর্থনৈতিক নীতিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান অর্থমন্ত্রী Rachel Reeves-এর অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। গত এক দশকে দেশটি একাধিক প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে স্টারমার পদত্যাগ করলে তা হবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি বড় উদাহরণ।

আরও পড়ুন  কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে নতুন সংকট, পদত্যাগ করতে পারেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্টারমারের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি হয় নেতৃত্ব ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন, অথবা দলীয় চাপের মুখে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোন পথ তিনি বেছে নেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই বিষয়টি ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ফোরামে স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, সোমবারের ঘোষণাই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়নি এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকেও এ ধরনের কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন যতই বাড়ুক না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। কিয়ার স্টারমার তাঁর অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন কি না, নাকি নেতৃত্বে আসবে নতুন মুখ—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। সোমবারকে ঘিরে তাই দেশটির রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ও কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে।