ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসি সারোয়ার আলমের বদলি বাতিলের দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন

মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারোয়ার আলমের বদলি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সচেতন নাগরিকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেটে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে, জনসেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তাই তার বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধনটি নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ডিসি সারোয়ার আলমকে সিলেটে বহাল রাখার দাবি জানান। মানববন্ধন ঘিরে এলাকায় উৎসুক জনতার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

বক্তারা বলেন, একজন দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সারোয়ার আলম সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি প্রশাসনের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজীকরণ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয়মূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

তাদের দাবি, একজন কর্মকর্তার বদলি সরকারি প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও কিছু ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সিলেটের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সারোয়ার আলমকে আরও কিছু সময় দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “ডিসি সারোয়ার আলম সব সময় সাধারণ মানুষের কথা শুনেছেন। কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমন একজন কর্মকর্তার বদলি সিলেটবাসীর জন্য হতাশার বিষয়।”

একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেন, “আমরা প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে তার সহযোগিতা পেয়েছি। তিনি তরুণদের জন্য ইতিবাচক কাজ করেছেন। তাই আমরা তার বদলি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”

সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেন, সিলেটে পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান জেলা প্রশাসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা সিলেটবাসীর অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাবেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা একটি স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণাও দেন। তাদের বক্তব্য, এই দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তবে তারা সব ধরনের কর্মসূচি আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান রেখেই পরিচালনা করবেন বলে জানান।

এদিকে ডিসি সারোয়ার আলমের বদলির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ কেউ সরকারি চাকরিতে বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও মত দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রতি জনগণের এমন সমর্থন তার কর্মদক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততার প্রতিফলন হতে পারে। তবে সরকারি প্রশাসনে বদলি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক বিবেচনার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা নয়; বরং একজন জনপ্রিয় ও কর্মক্ষম কর্মকর্তাকে সিলেটে রেখে উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আবেদন জানানো।

কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন সমাপ্ত ঘোষণা করেন। তবে তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সিলেটে ডিসি সারোয়ার আলমের বদলি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধন এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন সিলেটবাসী। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও জনগণের সম্পর্ক, জনপ্রশাসনের কার্যকারিতা এবং জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবার স্বার্থে এই দাবি উত্থাপন করেছেন। এখন দেখার বিষয়, তাদের এই দাবি কতটা গুরুত্ব পায় এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কী ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিসি সারোয়ার আলমের বদলি বাতিলের দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন

Update Time : ০৯:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

সিলেটে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারোয়ার আলমের বদলি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সচেতন নাগরিকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেটে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে, জনসেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তাই তার বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধনটি নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ডিসি সারোয়ার আলমকে সিলেটে বহাল রাখার দাবি জানান। মানববন্ধন ঘিরে এলাকায় উৎসুক জনতার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

বক্তারা বলেন, একজন দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সারোয়ার আলম সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি প্রশাসনের সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজীকরণ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সমন্বয়মূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

আরও পড়ুন  আগের চেয়ে সুস্থ মির্জা আব্বাস, দেশবাসীর দোয়া চাইলেন

তাদের দাবি, একজন কর্মকর্তার বদলি সরকারি প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও কিছু ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সিলেটের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সারোয়ার আলমকে আরও কিছু সময় দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “ডিসি সারোয়ার আলম সব সময় সাধারণ মানুষের কথা শুনেছেন। কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমন একজন কর্মকর্তার বদলি সিলেটবাসীর জন্য হতাশার বিষয়।”

একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেন, “আমরা প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে তার সহযোগিতা পেয়েছি। তিনি তরুণদের জন্য ইতিবাচক কাজ করেছেন। তাই আমরা তার বদলি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”

সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেন, সিলেটে পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান জেলা প্রশাসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  সংসদ সচিবালয় কমিশন গঠন, চেয়ারম্যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা সিলেটবাসীর অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাবেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা একটি স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণাও দেন। তাদের বক্তব্য, এই দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তবে তারা সব ধরনের কর্মসূচি আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান রেখেই পরিচালনা করবেন বলে জানান।

এদিকে ডিসি সারোয়ার আলমের বদলির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ কেউ সরকারি চাকরিতে বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া বলেও মত দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার প্রতি জনগণের এমন সমর্থন তার কর্মদক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততার প্রতিফলন হতে পারে। তবে সরকারি প্রশাসনে বদলি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক বিবেচনার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন  সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হচ্ছে বুধবার থেকে

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা নয়; বরং একজন জনপ্রিয় ও কর্মক্ষম কর্মকর্তাকে সিলেটে রেখে উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আবেদন জানানো।

কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন সমাপ্ত ঘোষণা করেন। তবে তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিক উপায়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সিলেটে ডিসি সারোয়ার আলমের বদলি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধন এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন সিলেটবাসী। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও জনগণের সম্পর্ক, জনপ্রশাসনের কার্যকারিতা এবং জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবার স্বার্থে এই দাবি উত্থাপন করেছেন। এখন দেখার বিষয়, তাদের এই দাবি কতটা গুরুত্ব পায় এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কী ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আসে।