মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি বিল গেটস মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটিকে দেওয়া রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যে তিন নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করেছেন। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে নেওয়া ওই সাক্ষ্যের অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ১০ জুন অনুষ্ঠিত সাক্ষ্যপর্বে গেটস প্রথমে দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁদের মধ্যে একজন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনা। পরে কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের মুখে তিনি আরেক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথাও স্বীকার করেন।
জবানবন্দিতে গেটস বলেন, তিনি কখনোই কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেননি। তবে এপস্টেইনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু নারী ও কিশোরী পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের শিকার হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তাঁদের কাছাকাছি গিয়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানোকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলেও আখ্যা দেন গেটস। তিনি জানান, অতীতে তাঁর দুটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছেও স্বীকার করেছিলেন। পরে এপস্টেইন সেই সম্পর্কগুলোর তথ্য জেনে গিয়েছিলেন।
সাক্ষ্যে গেটস দাবি করেন, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তথ্য জানার পর এপস্টেইন তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই চিকিৎসা-উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল।
কংগ্রেস সদস্যরা গেটসকে ২০১৩ সালের একটি ই-মেইল দেখান, যেখানে অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের নাম উল্লেখ ছিল। গেটস বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তিনি ধারণা করেছিলেন এপস্টেইন কেবল তাঁর দুটি সম্পর্কের কথাই জানতেন।
তবে গেটস জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইন তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে কখনো সফলভাবে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেননি। তাঁর মতে, এপস্টেইনের উদ্দেশ্য সেদিকেই ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন নথিতে দাবি করা হয়, গেটস রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের কাছ থেকে বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন গেটস।
রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যে তিনি স্বীকার করেন, কোনো এক সময় একটি সম্পর্কের কারণে সংক্রমণের আশঙ্কা করেছিলেন। তবে তাঁর দাবি, তিনি কখনো কোনো যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হননি এবং এপস্টেইনের চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য নয়।



























