ইরান দলের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরান জাতীয় ফুটবল দলের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া দলটি এবার কিছুটা সুবিধা পেল। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নতুন সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের দুই দিন আগে ইরান দল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এর ফলে খেলোয়াড়রা ম্যাচের আগে পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে এই শিথিলতার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। আগামী শনিবার সকালে মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর একই দিন ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। অর্থাৎ অবস্থানের সময়সীমা সীমিত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ফিফা কার্যক্রম সমন্বয় দলের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু গিউলিয়ানি এ বিষয়ে বলেন, সিদ্ধান্তটি আগে থেকেই পরিকল্পনার অংশ ছিল। প্রথম দুই ম্যাচে ইরান দলের যাতায়াত ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শুরুতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। সবকিছু সন্তোষজনক হওয়ায় খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ভ্রমণজনিত ক্লান্তি কমানোর জন্য নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এর আগে ভ্রমণসংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিল ইরান ফুটবল দল ও দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। তাদের অভিযোগ ছিল, এসব বিধিনিষেধ খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনার কারণে শুরু থেকেই নানা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ইরান। বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত অনেক পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে দলটিকে।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসন শহরে ইরান দলের বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিজুয়ানায় ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ইরান দলের কয়েকজন সহায়ক কর্মী এবং ফুটবল ফেডারেশনের কিছু কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে। ফলে দলের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এর আগে নিয়ম অনুযায়ী কেবল ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেত ইরান দল। এতে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, অনুশীলন এবং স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলের জন্য প্রস্তুতির সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিন্ন জলবায়ু ও সময় অঞ্চলে খেলার ক্ষেত্রে কয়েক দিন আগে পৌঁছানো পারফরম্যান্সের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নতুন ঘোষণার পর ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, দল ইতোমধ্যে তিজুয়ানা ছেড়ে সিয়াটলের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। সেখানে পৌঁছে তারা শেষ ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করবে। বর্তমানে ‘জি’ গ্রুপে দুই ম্যাচ শেষে দুই পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইরান। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে দলটি।
গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে মিসর। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা তালিকার প্রথম অবস্থানে আছে। অন্যদিকে ইরানের সমান দুই পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিসরের বিপক্ষে ভালো ফল করতে পারলে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। ক্রীড়াবিদ ও বিশ্লেষকদের ধারণা, ভ্রমণ বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। দীর্ঘ যাতায়াতের চাপ কমে যাওয়ায় তারা মাঠের খেলায় আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে মাঠের বাইরের বিষয়গুলোও অনেক সময় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইরানের ক্ষেত্রে ভ্রমণসংক্রান্ত এই পরিবর্তন তাদের প্রস্তুতি এবং পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সব নজর শনিবারের ম্যাচে। মিসরের বিপক্ষে লড়াইয়ে জয় কিংবা অনুকূল ফল অর্জন করতে পারলে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার পথে বড় ধাপ এগিয়ে যাবে ইরান। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সিদ্ধান্ত তাই শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং বিশ্বকাপে ইরান দলের সম্ভাবনাকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।



























