ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কোন রক্তের গ্রুপে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি? জানাল গবেষণা

রক্তের গ্রুপ নয়, সুস্থ জীবনযাপনই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শরীরচর্চার অভাব কিংবা পারিবারিক ইতিহাসকে দায়ী করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। গবেষকদের মতে, ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্য রক্তের গ্রুপের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আতঙ্কের বিষয় নয়; বরং স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার একটি সুযোগ।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা রক্তের গ্রুপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে দেখতে একাধিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। প্রায় ৫১টি গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ‘বি’ রক্তের গ্রুপধারীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি হতে পারে।

তবে গবেষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত মাত্র। এর অর্থ এই নয় যে, ‘বি’ রক্তের গ্রুপ থাকলেই কেউ নিশ্চিতভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ধারণে রক্তের গ্রুপের চেয়ে জীবনযাপনের ধরন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, নিচের কারণগুলো এখনো ডায়াবেটিসের প্রধান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—

  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
  • নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব
  • দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
  • পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস
  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

তাই শুধু রক্তের গ্রুপ দেখে কারও স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

কেন ‘বি’ রক্তের গ্রুপে ঝুঁকি বেশি হতে পারে?

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, রক্তের গ্রুপ শরীরের কিছু জৈবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে—

  • অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য
  • শরীরের বিপাক বা মেটাবলিজম প্রক্রিয়া
  • ইনসুলিনের কার্যকারিতা
  • প্রদাহজনিত কিছু শারীরিক প্রতিক্রিয়া

এসব বিষয়ের সঙ্গে রক্তের গ্রুপের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

রক্তের গ্রুপ নয়, জীবনযাপনই বড় নিয়ামক

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গ্রহণ করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে যেসব অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি—

  • প্রতিদিন নিয়মিত শরীরচর্চা করা
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার কমানো
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
  • মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা

এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করলে প্রাথমিক পর্যায়েই ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব।

সচেতনতাই হতে পারে সুরক্ষার উপায়

নতুন গবেষণায় ‘বি’ রক্তের গ্রুপের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা। কারণ ডায়াবেটিস একটি বহুমাত্রিক রোগ, যার পেছনে জেনেটিক, পরিবেশগত ও জীবনধারাগত নানা কারণ কাজ করে।

তাই আপনার রক্তের গ্রুপ যাই হোক না কেন, সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা। সচেতন খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল বনাম ভারত: শেফালির ঝড়ে ৫ উইকেটের হার

কোন রক্তের গ্রুপে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি? জানাল গবেষণা

Update Time : ০৯:২০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শরীরচর্চার অভাব কিংবা পারিবারিক ইতিহাসকে দায়ী করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। গবেষকদের মতে, ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্য রক্তের গ্রুপের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আতঙ্কের বিষয় নয়; বরং স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার একটি সুযোগ।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা রক্তের গ্রুপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে দেখতে একাধিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। প্রায় ৫১টি গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ‘বি’ রক্তের গ্রুপধারীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন  বাড়ি বদলের সময় গাছ বাঁচানোর ৭ সহজ কৌশল

তবে গবেষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত মাত্র। এর অর্থ এই নয় যে, ‘বি’ রক্তের গ্রুপ থাকলেই কেউ নিশ্চিতভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ধারণে রক্তের গ্রুপের চেয়ে জীবনযাপনের ধরন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, নিচের কারণগুলো এখনো ডায়াবেটিসের প্রধান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—

  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
  • অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
  • নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব
  • দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
  • পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস
  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

তাই শুধু রক্তের গ্রুপ দেখে কারও স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

কেন ‘বি’ রক্তের গ্রুপে ঝুঁকি বেশি হতে পারে?

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, রক্তের গ্রুপ শরীরের কিছু জৈবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে—

  • অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য
  • শরীরের বিপাক বা মেটাবলিজম প্রক্রিয়া
  • ইনসুলিনের কার্যকারিতা
  • প্রদাহজনিত কিছু শারীরিক প্রতিক্রিয়া
আরও পড়ুন  ত্বকের গোটা ব্রণ, সিস্ট নাকি টিউমার? জেনে নিন

এসব বিষয়ের সঙ্গে রক্তের গ্রুপের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

রক্তের গ্রুপ নয়, জীবনযাপনই বড় নিয়ামক

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গ্রহণ করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে যেসব অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি—

  • প্রতিদিন নিয়মিত শরীরচর্চা করা
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার কমানো
  • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
  • মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
আরও পড়ুন  সম্পর্কের রেড ফ্ল্যাগ চিনবেন কীভাবে ?

এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করলে প্রাথমিক পর্যায়েই ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব।

সচেতনতাই হতে পারে সুরক্ষার উপায়

নতুন গবেষণায় ‘বি’ রক্তের গ্রুপের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা। কারণ ডায়াবেটিস একটি বহুমাত্রিক রোগ, যার পেছনে জেনেটিক, পরিবেশগত ও জীবনধারাগত নানা কারণ কাজ করে।

তাই আপনার রক্তের গ্রুপ যাই হোক না কেন, সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা। সচেতন খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।