ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত ১৬৪, ১০ হাজার প্রাণহানির আশঙ্কায় উৎকণ্ঠা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৫০৮

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা দেখছেন এক বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত।

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে সংস্থাটি এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

ইউএসজিএসের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে রাজধানীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের তথ্য এখনো এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউএসজিএসের পূর্বাভাসমূলক মডেল বলছে, প্রাণহানি কয়েক হাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। অনেক মানুষ ধসে পড়া ভবন ও স্থাপনার নিচে আটকা পড়ে আছেন। একই সঙ্গে ভূমিকম্পের পরও একাধিক শক্তিশালী পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন জরুরি সেবা কর্মীরা। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন অসংখ্য মানুষ। আহতদের স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ভবন থেকে নিচে নামার সময় পুরো পরিস্থিতি যেন ভৌতিক সিনেমার মতো মনে হচ্ছিল। ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে প্রাণ বাঁচাতে নিচে নামতে হয়েছে। তিনি জানান, যে ভবনে তিনি ছিলেন, সেখান থেকে মাত্র একটি পরিবারকে নিরাপদে বের হতে দেখেছেন।

বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। তিনি লা গুয়াইরা রাজ্যকে ‘একটি সত্যিকারের ট্র্যাজেডির অঞ্চল’ বলে উল্লেখ করেন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সেখানে ১০ হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনে ভূমিকম্প আঘাত হানায় অনেক মানুষ নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনও দেশটির সরকারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, দুর্যোগের এই সময়ে তথ্য আদান-প্রদান মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল বনাম ভারত: শেফালির ঝড়ে ৫ উইকেটের হার

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত ১৬৪, ১০ হাজার প্রাণহানির আশঙ্কায় উৎকণ্ঠা

Update Time : ১০:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে সংস্থাটি এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

ইউএসজিএসের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে রাজধানীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের তথ্য এখনো এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মাদারীপুরে লিফট বিকল: নারী ও শিশুসহ ৮ জন ৩০ মিনিট আটকা, পরে উদ্ধার

ইউএসজিএসের পূর্বাভাসমূলক মডেল বলছে, প্রাণহানি কয়েক হাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। অনেক মানুষ ধসে পড়া ভবন ও স্থাপনার নিচে আটকা পড়ে আছেন। একই সঙ্গে ভূমিকম্পের পরও একাধিক শক্তিশালী পরাঘাত বা আফটারশক অনুভূত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন জরুরি সেবা কর্মীরা। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন অসংখ্য মানুষ। আহতদের স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

আরও পড়ুন  তাপপ্রবাহ ট্র্যাজেডি: ১১ দিনে স্ত্রী-সন্তানের পর মারা গেলেন সোবহান

স্থানীয় বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ভবন থেকে নিচে নামার সময় পুরো পরিস্থিতি যেন ভৌতিক সিনেমার মতো মনে হচ্ছিল। ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে প্রাণ বাঁচাতে নিচে নামতে হয়েছে। তিনি জানান, যে ভবনে তিনি ছিলেন, সেখান থেকে মাত্র একটি পরিবারকে নিরাপদে বের হতে দেখেছেন।

বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। তিনি লা গুয়াইরা রাজ্যকে ‘একটি সত্যিকারের ট্র্যাজেডির অঞ্চল’ বলে উল্লেখ করেন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সেখানে ১০ হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনে ভূমিকম্প আঘাত হানায় অনেক মানুষ নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  চুক্তিতে না এলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাকে সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনও দেশটির সরকারকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, দুর্যোগের এই সময়ে তথ্য আদান-প্রদান মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।