ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও এনে দিয়েছে এক অবিশ্বাস্য আশার গল্প। শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ৩২ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র ১৮ দিনের এক নবজাতককে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একই ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় তার মাকেও। উদ্ধার অভিযানের এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উদ্ধারকারীদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর যখন ছোট্ট শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনা হয়, তখন উপস্থিত উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। শিশুটিকে কাপড়ে মুড়িয়ে একজন উদ্ধারকর্মীর হাত থেকে আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং দ্রুত প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকলেও শিশুটির শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে উদ্ধারকারীরা একই ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মাকেও জীবিত উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
চিকিৎসকদের ধারণা, ভূমিকম্পের সময় মা নিজের শরীর দিয়ে সন্তানকে ঢেকে রেখেছিলেন। ফলে ওপর থেকে কংক্রিট ও ভারী ধ্বংসাবশেষ পড়ে গেলেও শিশুটির ওপর সরাসরি আঘাত লাগেনি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের এই আত্মত্যাগী প্রচেষ্টাই নবজাতকের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
গত বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই মা ও নবজাতকের জীবিত উদ্ধার হওয়া ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও মানবিকতা ও আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্যোগের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দীর্ঘ সময় পরও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব এই ঘটনাই আবারও প্রমাণ করেছে।



























