ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, হামলা-হুমকিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনভোগান্তি বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে তীব্র লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, শেরপুর, ঝালকাঠি, সিলেট, রাজশাহী ও ঢাকার দোহারসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অনিয়ম এবং অতিরিক্ত বিলের কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরম ও ফুটবল বিশ্বকাপের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ একদল যুবক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলায় কার্যালয়ের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলায় প্রায় ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। ফলে আটটি ফিডারের মধ্যে মাত্র দুটি চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকার বাসিন্দারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

ঢাকার দোহারে অতিরিক্ত বিল ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও এবং মানববন্ধন করেন গ্রাহকেরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে ভুতুড়ে বিল আদায় করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

শেরপুরে বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে লিখিত আবেদন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কর্মকর্তারা বলছেন, জেলার চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

ঝালকাঠিতে গ্রাহক হয়রানি, অনিয়ম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ঘাটতির কারণেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে একদল ব্যক্তি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ঢুকে লাইনম্যানকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রাজশাহীর বাগমারায় লোডশেডিং নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রচার চালাতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের একটি প্রচার গাড়ি স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন এবং বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রচার গাড়িটি এলাকা ত্যাগ করে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র গরম এবং বিশ্বকাপ ফুটবল চলার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশের অধিকাংশ জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

লোডশেডিংয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, হামলা-হুমকিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

Update Time : ০৯:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সারা দেশে তীব্র লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, শেরপুর, ঝালকাঠি, সিলেট, রাজশাহী ও ঢাকার দোহারসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অনিয়ম এবং অতিরিক্ত বিলের কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরম ও ফুটবল বিশ্বকাপের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ একদল যুবক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলায় কার্যালয়ের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কে ভবনের ভেতরে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন  কুড়িগ্রাম বিদ্যুৎ বিভ্রাট: ৯ ঘণ্টা শাটডাউন ২ উপজেলায়

কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলায় প্রায় ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। ফলে আটটি ফিডারের মধ্যে মাত্র দুটি চালু রাখা সম্ভব হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকার বাসিন্দারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

ঢাকার দোহারে অতিরিক্ত বিল ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও এবং মানববন্ধন করেন গ্রাহকেরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে ভুতুড়ে বিল আদায় করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

আরও পড়ুন  নতুন মুখে চমক, প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

শেরপুরে বিশ্বকাপ ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে লিখিত আবেদন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কর্মকর্তারা বলছেন, জেলার চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

ঝালকাঠিতে গ্রাহক হয়রানি, অনিয়ম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ঘাটতির কারণেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে একদল ব্যক্তি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ঢুকে লাইনম্যানকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  বিদ্যুতের ঘাটতি নেই: গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য জ্বালানি মন্ত্রীর

রাজশাহীর বাগমারায় লোডশেডিং নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রচার চালাতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের একটি প্রচার গাড়ি স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন এবং বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রচার গাড়িটি এলাকা ত্যাগ করে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, তীব্র গরম এবং বিশ্বকাপ ফুটবল চলার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশের অধিকাংশ জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।