ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা, মঙ্গলবার জানাজার আয়োজন Logo টিপিএস বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র, কী হবে হাজারো অভিবাসীর? Logo মৌসুম শেষে আম খাবেন? দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সহজ উপায় Logo প্রেশার কুকারে তেজপাতা দিলে কি বিস্ফোরণ হতে পারে? Logo নাজনীন নীহা কি বাগদান করলেন? ১টি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড় Logo আখেরাত বিক্রি করার ৩টি বড় ক্ষতি: আপনিও কি এই ভুল করছেন? Logo ডিহাইড্রেশনেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, জানুন কেন Logo শিশুর স্বাভাবিক আচরণই কেন বাবা-মায়ের বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে? Logo অবাক করা অজগর উদ্ধার: সাতক্ষীরার দোকানে ঢুকে পড়া অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত Logo জেব্রা ফিঞ্চ ভাষা রহস্য: এআইয়ের অসাধারণ সাফল্যে গবেষকের ১ লাখ ডলার পুরস্কার

আখেরাত বিক্রি করার ৩টি বড় ক্ষতি: আপনিও কি এই ভুল করছেন?

ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহে আখেরাত বিক্রি করা মানুষের স্বভাব। ছবি: সংগৃহীত

আখেরাত বিক্রি করে যারা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ কিনে নিচ্ছে, তাদের জন্য পবিত্র কোরআনে রয়েছে এক চরম সতর্কবার্তা। সুরা আদিয়াতের প্রথম দুই আয়াতে আল্লাহতায়ালা দীর্ঘশ্বাসে ছুটে চলা সেইসব ঘোড়ার শপথ করেছেন, যারা ক্ষুর দিয়ে আগুনের ফুলকি ছিটায়। মুফাসসিরদের মতে, এখানে মূলত মানুষের অন্ধ ছুটে চলাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, কারণ মানুষ ধনের লোভে শয়তানের পথে অবিরত দৌড়াচ্ছে। মানুষ তার প্রতিপালকের প্রতি এতটাই অকৃতজ্ঞ যে, সম্পদের লালসায় সে নিজের শৈশব, যৌবন ও মৃত্যুর সীমানা ভুলে অন্ধের মতো ছুটে চলেছে।

দুনিয়ার এই মরিচীকার হাকিকত বোঝাতে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) একবার সাহাবিদের নিয়ে মদিনার বাজারে গিয়েছিলেন। বাজারের এক কোণে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে একটি কানকাটা মরা বকরি পড়ে থাকতে দেখে নবীজি (সা.) সেটি সবাইকে দেখালেন। দুর্গন্ধের কারণে সাহাবিরা যখন নাক চেপে ধরলেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) মুচকি হেসে বললেন, এই দুনিয়ার দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে এই মরা বকরির চেয়েও অনেক বেশি। তিনি স্পষ্ট করলেন যে, বুদ্ধিমান মুমিনরা কখনো এই তুচ্ছ দুনিয়ার মোহে নিজের আসল ঠিকানা ভুলে যায় না।

রসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করেছিলেন, কেউ যদি এই মরা বকরিটি তোমাদের বিনামূল্যেও দিতে চায়, তোমরা কি তা গ্রহণ করবে? সাহাবিরা একবাক্যে উত্তর দিলেন, হে আল্লাহর রাসুল, এটি তো মৃত এবং ত্রুটিযুক্ত, এটি ফ্রি দিলেও আমাদের কোনো কাজে আসবে না। তখন মানবতার মহান শিক্ষক আফসোস করে বললেন, আজ মানুষ এই পচা মরা বকরির সমতুল্য দুনিয়ার রাজত্ব পাওয়ার জন্য নিজের পরকালকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কত বড় মূর্খ হলে মানুষ সাময়িক আরাম-আয়েশের জন্য নিজের চিরস্থায়ী জীবনের সৌভাগ্যকে এভাবে বলি দিতে পারে!

বর্তমান যুগের মানুষ বাঁ দিকের বুক পকেট অর্থাৎ টাকা-পয়সা আর ব্যাংক ব্যালেন্স সামলাতে সামলাতে তার ইহকাল ও পরকাল দুই-ই হারিয়ে ফেলছে। অথচ মানুষের বুকের ঠিক একটু নিচেই রয়েছে এক অমূল্য নিয়ামত, যা হলো তার কলব বা হৃদয়, যেখানে আল্লাহর জিকির থাকার কথা ছিল। কিন্তু আফসোস, মানুষ প্রতিনিয়ত গোগ্রাসে দুনিয়া গিলতে গিলতে একদিন হঠাৎ করেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এবং তার চোখ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতাতেও দুনিয়া পূজারী মানুষের এই করুণ ও বিভ্রান্তিকর জীবনের চিত্রটি খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, এই দুনিয়া হলো একটি পরীক্ষাকেন্দ্র বা বাজার, যেখান থেকে আমাদের আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু আমরা উল্টো এই বাজার থেকেই আখেরাত বিক্রি করে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সদাই কিনে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মারছি। পবিত্র কুরআনের সুরা আদিয়াতের তাফসির এবং বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর হাদিস গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি যে, দুনিয়ার লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। তাই অন্ধের মতো না ছুটে আমাদের উচিত আজই তাওবা করে হকের পথে ফিরে আসা এবং পরকালের পুঁজি জমা করা।

পরিশেষে বলা যায়, একজন প্রকৃত বুদ্ধিমান মানুষ কখনো সামান্য দুনিয়ার স্বার্থে নিজের আখেরাত বিক্রি করার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মৃত্যুর চৌকাঠে পা দেওয়ার আগেই আমাদের এই অন্ধ দৌড় থামাতে হবে এবং জীবনের আসল উদ্দেশ্য খুঁজে নিতে হবে। আমাদের উচিত নিয়তি ও সংসারের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে না বেঁধে, ইসলামের আলোয় নিজের জীবনকে আলোকিত করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়ার ধোঁকা থেকে বেঁচে খাঁটি মুমিন হিসেবে পরকালের চিরস্থায়ী সফলতা অর্জন করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা, মঙ্গলবার জানাজার আয়োজন

আখেরাত বিক্রি করার ৩টি বড় ক্ষতি: আপনিও কি এই ভুল করছেন?

Update Time : ০৪:২৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

আখেরাত বিক্রি করে যারা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ কিনে নিচ্ছে, তাদের জন্য পবিত্র কোরআনে রয়েছে এক চরম সতর্কবার্তা। সুরা আদিয়াতের প্রথম দুই আয়াতে আল্লাহতায়ালা দীর্ঘশ্বাসে ছুটে চলা সেইসব ঘোড়ার শপথ করেছেন, যারা ক্ষুর দিয়ে আগুনের ফুলকি ছিটায়। মুফাসসিরদের মতে, এখানে মূলত মানুষের অন্ধ ছুটে চলাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, কারণ মানুষ ধনের লোভে শয়তানের পথে অবিরত দৌড়াচ্ছে। মানুষ তার প্রতিপালকের প্রতি এতটাই অকৃতজ্ঞ যে, সম্পদের লালসায় সে নিজের শৈশব, যৌবন ও মৃত্যুর সীমানা ভুলে অন্ধের মতো ছুটে চলেছে।

দুনিয়ার এই মরিচীকার হাকিকত বোঝাতে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) একবার সাহাবিদের নিয়ে মদিনার বাজারে গিয়েছিলেন। বাজারের এক কোণে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে একটি কানকাটা মরা বকরি পড়ে থাকতে দেখে নবীজি (সা.) সেটি সবাইকে দেখালেন। দুর্গন্ধের কারণে সাহাবিরা যখন নাক চেপে ধরলেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) মুচকি হেসে বললেন, এই দুনিয়ার দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে এই মরা বকরির চেয়েও অনেক বেশি। তিনি স্পষ্ট করলেন যে, বুদ্ধিমান মুমিনরা কখনো এই তুচ্ছ দুনিয়ার মোহে নিজের আসল ঠিকানা ভুলে যায় না।

আরও পড়ুন  হজ শেষে ফিরেছেন ৭৩০৭৬ বাংলাদেশি

রসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করেছিলেন, কেউ যদি এই মরা বকরিটি তোমাদের বিনামূল্যেও দিতে চায়, তোমরা কি তা গ্রহণ করবে? সাহাবিরা একবাক্যে উত্তর দিলেন, হে আল্লাহর রাসুল, এটি তো মৃত এবং ত্রুটিযুক্ত, এটি ফ্রি দিলেও আমাদের কোনো কাজে আসবে না। তখন মানবতার মহান শিক্ষক আফসোস করে বললেন, আজ মানুষ এই পচা মরা বকরির সমতুল্য দুনিয়ার রাজত্ব পাওয়ার জন্য নিজের পরকালকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কত বড় মূর্খ হলে মানুষ সাময়িক আরাম-আয়েশের জন্য নিজের চিরস্থায়ী জীবনের সৌভাগ্যকে এভাবে বলি দিতে পারে!

বর্তমান যুগের মানুষ বাঁ দিকের বুক পকেট অর্থাৎ টাকা-পয়সা আর ব্যাংক ব্যালেন্স সামলাতে সামলাতে তার ইহকাল ও পরকাল দুই-ই হারিয়ে ফেলছে। অথচ মানুষের বুকের ঠিক একটু নিচেই রয়েছে এক অমূল্য নিয়ামত, যা হলো তার কলব বা হৃদয়, যেখানে আল্লাহর জিকির থাকার কথা ছিল। কিন্তু আফসোস, মানুষ প্রতিনিয়ত গোগ্রাসে দুনিয়া গিলতে গিলতে একদিন হঠাৎ করেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এবং তার চোখ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতাতেও দুনিয়া পূজারী মানুষের এই করুণ ও বিভ্রান্তিকর জীবনের চিত্রটি খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

আরও পড়ুন  আল্লাহর নিয়ামতের প্রকাশও ইবাদত, শেখায় ইসলাম

ইসলামের মূল শিক্ষা হলো, এই দুনিয়া হলো একটি পরীক্ষাকেন্দ্র বা বাজার, যেখান থেকে আমাদের আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু আমরা উল্টো এই বাজার থেকেই আখেরাত বিক্রি করে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সদাই কিনে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মারছি। পবিত্র কুরআনের সুরা আদিয়াতের তাফসির এবং বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর হাদিস গ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি যে, দুনিয়ার লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। তাই অন্ধের মতো না ছুটে আমাদের উচিত আজই তাওবা করে হকের পথে ফিরে আসা এবং পরকালের পুঁজি জমা করা।

আরও পড়ুন  মুমিনের আত্মায় ঝরে তওবার বৃষ্টি

পরিশেষে বলা যায়, একজন প্রকৃত বুদ্ধিমান মানুষ কখনো সামান্য দুনিয়ার স্বার্থে নিজের আখেরাত বিক্রি করার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মৃত্যুর চৌকাঠে পা দেওয়ার আগেই আমাদের এই অন্ধ দৌড় থামাতে হবে এবং জীবনের আসল উদ্দেশ্য খুঁজে নিতে হবে। আমাদের উচিত নিয়তি ও সংসারের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে না বেঁধে, ইসলামের আলোয় নিজের জীবনকে আলোকিত করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে দুনিয়ার ধোঁকা থেকে বেঁচে খাঁটি মুমিন হিসেবে পরকালের চিরস্থায়ী সফলতা অর্জন করার তাওফিক দান করুন, আমিন।