ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ২ জুলাই শুরু হচ্ছে ১৯তম ‘অ্যাসেন্ট কর্পোরেট কাপ-২০২৬’ Logo জুলাইয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo আড়াই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল Logo চট্টগ্রাম পেল নতুন থানা, নিকারের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত Logo সিল-সই জালিয়াতি, কম্পিউটার ব্যবসায়ীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড Logo গরমে কফিপ্রেমীদের নতুন পছন্দ, ইতালির অ্যাফোগাটো কফি Logo মাংস দিয়ে বুটের ডালের দারুণ রেসিপি, স্বাদে হবে সবাই মুগ্ধ Logo স্বাদ অটুট রেখে স্বাস্থ্যকর লুচি বানানোর সহজ কৌশল Logo শিশু সবজি খেতে চায় না? অভ্যাস বদলাবে ৬ সহজ কৌশলে Logo রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ, ২০০ বাংলাদেশি পাচ্ছেন সরকারি বৃত্তি

হঠাৎ সুগার কমলে মস্তিষ্কে বড় ঝুঁকি, কী করবেন?

হঠাৎ রক্তে সুগার কমলেই ঝুঁকিতে পড়ে মস্তিষ্ক, কীভাবে বাঁচবেন?

রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে তা শুধু দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার কারণ নয়, বরং মস্তিষ্কের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে রোগীর খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি স্থায়ী স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই সুগার কমার লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় মস্তিষ্ক প্রায় সম্পূর্ণভাবে গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মস্তিষ্ক নিজে গ্লুকোজ তৈরি বা জমা করে রাখতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত জ্বালানি পায় না এবং তার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে শুরু করে।

দীর্ঘ সময় এই অবস্থা চলতে থাকলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই হাইপোগ্লাইসেমিয়াকে কখনোই সাধারণ সমস্যা হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আগে শরীর সাধারণত কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়। যেমন—

  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • শরীর কাঁপা
  • হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
  • মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
  • হঠাৎ তীব্র ক্ষুধা অনুভব করা
  • উদ্বেগ বা অস্থিরতা
  • বিভ্রান্তি বা খিটখিটে মেজাজ
  • ঝাপসা দেখা
  • শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের মণির অস্বাভাবিক নড়াচড়া

এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।

কেন হঠাৎ রক্তে সুগার কমে যায়?

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধ, খাবার ও শারীরিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এর প্রধান কারণগুলো হলো—

  • ইনসুলিনের ভুল মাত্রা গ্রহণ করা
  • ইনসুলিন নেওয়ার পর সময়মতো খাবার না খাওয়া
  • দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম
  • খালি পেটে মদ্যপান
  • ডায়াবেটিসের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, লিভার বা কিডনির রোগী এবং নবজাতকদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

সুগার হঠাৎ কমে গেলে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগী যদি সচেতন থাকেন এবং খাবার গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে দ্রুত কিছু গ্লুকোজ শরীরে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

করণীয়—

  • তিন চা-চামচ গ্লুকোজ গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে পান করান।
  • অথবা ফলের রস, মিষ্টি পানীয় বা গ্লুকোজসমৃদ্ধ খাবার দিন।
  • ১৫ মিনিট পর আবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
  • প্রয়োজন হলে একইভাবে আবার গ্লুকোজ দিন এবং এরপর স্বাভাবিক খাবার খেতে দিন।

তবে রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যান, খিঁচুনি শুরু হয় বা কিছু খেতে না পারেন, তাহলে ঘরে বসে অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। জরুরি চিকিৎসা ছাড়া এ অবস্থায় রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

কীভাবে এই ঝুঁকি এড়াবেন?

চিকিৎসকদের মতে, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

  • নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত খাবার খান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন বা ওষুধ গ্রহণ করুন।
  • দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকবেন না।
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে আগে ও পরে প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ করুন।
  • নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
  • পরিবারের সদস্যদেরও হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ ও জরুরি করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে রাখুন।

সময়মতো সতর্কতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

হাইপোগ্লাইসেমিয়া এমন একটি অবস্থা, যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে অবহেলা করলে এটি মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সুগার কমার সামান্য লক্ষণও গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

২ জুলাই শুরু হচ্ছে ১৯তম ‘অ্যাসেন্ট কর্পোরেট কাপ-২০২৬’

হঠাৎ সুগার কমলে মস্তিষ্কে বড় ঝুঁকি, কী করবেন?

Update Time : ০৩:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে তা শুধু দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার কারণ নয়, বরং মস্তিষ্কের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে রোগীর খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি স্থায়ী স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই সুগার কমার লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় মস্তিষ্ক প্রায় সম্পূর্ণভাবে গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মস্তিষ্ক নিজে গ্লুকোজ তৈরি বা জমা করে রাখতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত জ্বালানি পায় না এবং তার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে শুরু করে।

দীর্ঘ সময় এই অবস্থা চলতে থাকলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই হাইপোগ্লাইসেমিয়াকে কখনোই সাধারণ সমস্যা হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন  এক সপ্তাহে কি পেটের মেদ ঝরানো সম্ভব? জানুন সত্য

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আগে শরীর সাধারণত কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়। যেমন—

  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • শরীর কাঁপা
  • হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
  • মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
  • হঠাৎ তীব্র ক্ষুধা অনুভব করা
  • উদ্বেগ বা অস্থিরতা
  • বিভ্রান্তি বা খিটখিটে মেজাজ
  • ঝাপসা দেখা
  • শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের মণির অস্বাভাবিক নড়াচড়া

এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।

কেন হঠাৎ রক্তে সুগার কমে যায়?

চিকিৎসকদের মতে, ওষুধ, খাবার ও শারীরিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এর প্রধান কারণগুলো হলো—

  • ইনসুলিনের ভুল মাত্রা গ্রহণ করা
  • ইনসুলিন নেওয়ার পর সময়মতো খাবার না খাওয়া
  • দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম
  • খালি পেটে মদ্যপান
  • ডায়াবেটিসের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
আরও পড়ুন  সম্পর্কের রেড ফ্ল্যাগ চিনবেন কীভাবে ?

বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, লিভার বা কিডনির রোগী এবং নবজাতকদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

সুগার হঠাৎ কমে গেলে কী করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগী যদি সচেতন থাকেন এবং খাবার গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে দ্রুত কিছু গ্লুকোজ শরীরে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

করণীয়—

  • তিন চা-চামচ গ্লুকোজ গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে পান করান।
  • অথবা ফলের রস, মিষ্টি পানীয় বা গ্লুকোজসমৃদ্ধ খাবার দিন।
  • ১৫ মিনিট পর আবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
  • প্রয়োজন হলে একইভাবে আবার গ্লুকোজ দিন এবং এরপর স্বাভাবিক খাবার খেতে দিন।

তবে রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যান, খিঁচুনি শুরু হয় বা কিছু খেতে না পারেন, তাহলে ঘরে বসে অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। জরুরি চিকিৎসা ছাড়া এ অবস্থায় রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন  গরমে পানিশূন্যতা রোধে কী খাবেন? জানুন কার্যকর উপায়

কীভাবে এই ঝুঁকি এড়াবেন?

চিকিৎসকদের মতে, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

  • নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত খাবার খান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন বা ওষুধ গ্রহণ করুন।
  • দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকবেন না।
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে আগে ও পরে প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ করুন।
  • নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
  • পরিবারের সদস্যদেরও হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ ও জরুরি করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে রাখুন।

সময়মতো সতর্কতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

হাইপোগ্লাইসেমিয়া এমন একটি অবস্থা, যা দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে অবহেলা করলে এটি মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সুগার কমার সামান্য লক্ষণও গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।