রেকর্ড, ট্রফি ও গোলে ভরা ক্যারিয়ার হলেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সামনে এখনও একটি বড় অপূর্ণতা রয়ে গেছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত একবারও গোল করতে পারেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। শুক্রবার ভোর পাঁচটায় শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। সেই ম্যাচেই ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্যক্তিগত এই অস্বস্তিকর অধ্যায় শেষ করতে চাইবেন রোনালদো।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট আটটি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল মিলিয়ে এই আট ম্যাচে তিনি একবারও প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে পাননি। অথচ ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে দলকে জিতিয়েছেন তিনি।
রোনালদোর এই গোলখরার শুরু হয়েছিল ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর একই আসরে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানির বিপক্ষেও গোলের দেখা পাননি। পরবর্তীতে ২০১০ সালে স্পেন, ২০১৮ সালে উরুগুয়ে এবং ২০২২ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ড ও মরক্কোর বিপক্ষেও নকআউট ম্যাচে গোলশূন্য ছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৬৫০ মিনিটেরও বেশি সময় মাঠে কাটিয়েছেন রোনালদো, কিন্তু গোলের খাতা খুলতে পারেননি। ক্যারিয়ারে ৯৭৫ গোল করা একজন ফুটবলারের জন্য এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলস্কোরারের নামের পাশে এই রেকর্ড অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত।
চলতি বিশ্বকাপে রোনালদোর পারফরম্যান্সও ছিল ওঠানামার মধ্যে। গ্রুপ পর্বে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। ম্যাচজুড়ে প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি তাঁকে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেক বিশ্লেষক ও সমর্থক।
তবে সমালোচনার জবাব দিতে বেশি সময় নেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ে জোড়া গোল করে নিজের পুরোনো ধারার আভাস দেন তিনি। ম্যাচ শেষে ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, “আই অ্যাম ব্যাক”। সেই উদযাপন নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছিল পর্তুগাল সমর্থকদের।
কিন্তু পরের ম্যাচেই আবার ছন্দ হারান রোনালদো। কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে তিনি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে নকআউট পর্বের আগে তাঁর ফর্ম নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড কতটা কার্যকর হতে পারবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত রোনালদোর মোট গোল ১০টি, আর সবকটিই এসেছে গ্রুপ পর্বে। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার তিনি। তবু নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার আক্ষেপ এখনও তাঁকে তাড়া করে ফিরছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের বিশ্বকাপ অধ্যায়ে নতুন এক ইতিহাস লিখতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।


























