মির্জা ফখরুল বক্তব্যে দেশের তরুণ সমাজের প্রতি কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, শুধু চাকরির অপেক্ষায় বসে থাকলে চলবে না, বরং দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ জনগোষ্ঠী। এই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে অর্থনীতি যেমন এগিয়ে যাবে, তেমনি বেকারত্বও কমে আসবে। তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না করে বিকল্প কর্মসংস্থানের পথও খুঁজে বের করতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান বিশ্বে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। তরুণদের পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও নিজের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। কঠোর পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং আত্মবিশ্বাসই একজন তরুণকে সফলতার পথে এগিয়ে নিতে পারে। তিনি বলেন, বেকার সময় নষ্ট না করে নতুন কিছু শেখা, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বিএনপির মহাসচিবের মতে, দেশের কৃষি, শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সেবা খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হলে শুধু কর্মসংস্থানই বাড়বে না, দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। তিনি তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এতে প্রতিটি নাগরিকের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের সততা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করতে হবে। একটি দক্ষ ও উৎপাদনশীল তরুণ সমাজই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
এ সময় তিনি সামাজিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণদের দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুস্থ সংস্কৃতি, খেলাধুলা, শিক্ষা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলে তরুণরা নিজেদের দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পাবে।
সবশেষে মির্জা ফখরুল বক্তব্য বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই। তাই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘পেটে ভাত পড়তে হলে কাজের কোনো বিকল্প নেই।’ কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরতার মাধ্যমেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।




























