শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। শুক্রবার বাদ জুমা তাঁর মরদেহ দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। সেখানে সহকর্মীরা তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন এবং প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
চ্যানেল আইয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম জানাজার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিকেল ৩টায় তাঁর মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। সেখানে বিকেল সাড়ে ৩টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর বাংলা একাডেমি থেকে মরদেহ মিরপুরে নেওয়ার পথে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ১৫ মিনিটের যাত্রাবিরতি থাকবে। পরে মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় জানাজা শেষে তাঁকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর মায়ের কবরে দাফন করা হবে।
আমীরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে শিশুসাহিত্য চর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর লেখায় শিশুদের উপযোগী গল্প, ছড়া এবং বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল বিষয় স্থান পেয়েছে। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক। শিশুদের জন্য সাহিত্য রচনার পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গেও দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন তিনি। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর লেখা পাঠকদের মধ্যে পরিচিতি লাভ করে।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এই সাহিত্যিক। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে শিশুসাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সহকর্মী, সাহিত্যিক ও পাঠকদের কাছে আমীরুল ইসলাম ছিলেন শিশুদের জন্য সৃষ্টিশীল সাহিত্য রচনায় নিবেদিত একজন লেখক। তাঁর দুই শতাধিক প্রকাশিত বই এবং দীর্ঘ সাহিত্যকর্ম বাংলা শিশুসাহিত্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের সাক্ষ্য বহন করে। মৃত্যুর পরও তাঁর লেখা শিশু-কিশোর পাঠকদের কাছে তাঁর স্মৃতি ধরে রাখবে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন