ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দারুণ পারফরম্যান্সের পুরো কৃতিত্ব সাবেক ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে দিয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন। সিরিজ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে আশরাফুল দায়িত্ব হারানোর পর অন্তর্বর্তীকালীন ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন সালাহ উদ্দীন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনেই ব্যাটারদের এমন পারফরম্যান্স দেখে আগের কোচের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২১৩ রান। মিরপুরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বিশেষ করে ওপেনার সাদমান ইসলামের ব্যাটিং ছিল চোখে পড়ার মতো। দিন শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। নতুন দিনে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির অপেক্ষায় মাঠে নামবেন তিনি।

মুশফিকুর রহিমের চোটের কারণে দলে সুযোগ পাওয়া তাওহিদ হৃদয়ও ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। পায়ের পেশিতে টান লাগার আগে ৮৪ বলে ৪২ রান করেন তিনি। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। সব মিলিয়ে প্রথম দিনে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ।

দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় আসে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ পরিবর্তনের বিষয়টি। প্রায় এক বছর জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আশরাফুল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগেও দলের অনুশীলনে ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে তাঁকে। তবে সিরিজ শুরুর ঠিক আগে তাঁকে সরিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয় সালাহ উদ্দীনকে।

নতুন দায়িত্বে থাকা সালাহ উদ্দীন মনে করেন, একজন কোচের কাজের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে সব সময় ফলাফলে দেখা যায় না। আগের কোচের রেখে যাওয়া কাজ পরবর্তী সময়ে দলের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই যোগাযোগ রয়েছে। আশরাফুলও নিশ্চয়ই ভালো কাজ করেছেন বলেই ব্যাটাররা এই টেস্টে ভালো করছেন।

সালাহ উদ্দীন আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য প্রত্যেক কোচেরই কিছু না কিছু অবদান রয়েছে। একজন মানুষ প্রতিদিন নিজের কাজে সমান ভালো করতে পারবেন না। তবে সততার সঙ্গে চেষ্টা করে যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, কোচের কাজের মূল্যায়ন শুধু তাৎক্ষণিক ফলাফল দিয়ে করা উচিত নয়।

আশরাফুলের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে সালাহ উদ্দীন বলেন, গত এক বছর ধরে তিনি জাতীয় দলের ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করেছেন। সেই পরিশ্রমের ফল হয়তো কখনো দেখা গেছে, আবার কখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল আসেনি। তবে এই টেস্টে ব্যাটারদের ভালো পারফরম্যান্সের পেছনে আগের কোচের কাজের ভূমিকা থাকতে পারে।

সালাহ উদ্দীনের ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের হাতে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় ছিল না। এত অল্প সময়ে ব্যাটিংয়ের বড় কোনো পরিবর্তন আনার সুযোগও ছিল না। তাই প্রথম দিনের পারফরম্যান্সের পুরো কৃতিত্ব আশরাফুলকেই দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে পরিবর্তন এলেও ব্যাটারদের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব এখনই স্পষ্ট নয়। তবে প্রথম দিনের ব্যাটিং বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। সাদমানের সেঞ্চুরি, দলের বড় সংগ্রহ এবং হৃদয়ের কার্যকর ইনিংসের পর দ্বিতীয় দিনে আরও ভালো অবস্থানে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের।