গাজীপুরের কোনাবাড়ীর দেওয়ালিয়াবাড়ী এলাকায় ঝুটের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন আশপাশের আরও কয়েকটি গুদামে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। বর্তমানে আগুন নেভাতে সংস্থাটির চারটি ইউনিট কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে দেওয়ালিয়াবাড়ী এলাকার একটি ঝুটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে আশপাশের আরও কয়েকটি গুদাম আগুনের কবলে পড়ে। এতে ওই এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে প্রথমে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ইউনিটের প্রয়োজন হয়। পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন যাতে আশপাশের অন্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে আগুনের বিস্তৃতি, গুদামগুলোর অবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঝুটের গুদামে সাধারণত পোশাক কারখানার কাপড়ের টুকরা, সুতা ও অন্যান্য পরিত্যক্ত উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়। এসব উপকরণের মধ্যে অনেকগুলো সহজেই আগুন ধরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে এ ধরনের গুদামে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে গাজীপুরের এই অগ্নিকাণ্ডে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের এলাকায় গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আশপাশের স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে এই ঘটনায় আশপাশের স্থাপনার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।