জাতীয় শাশুড়ি দিবস আজ রোববার (২৫ অক্টোবর)। প্রতি বছর অক্টোবরের চতুর্থ রোববার দিবসটি পালিত হয় শাশুড়িদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। পরিবারের নতুন সদস্যকে আপন করে নেওয়া, সন্তান ওনাতি-নাতনিদের যত্ন নেওয়া এবং বিপদে-আপদে পাশে থাকার মাধ্যমে অনেক শাশুড়ি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাঁদের অবদান স্মরণ করিয়ে দিতেই দিনটি বিশেষভাবে পালন করা হয়।

তবে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্ক সব সময় একরকম হয় না। কখনো পারিবারিক প্রত্যাশার পার্থক্য, কখনো মতের অমিল, আবার কখনো ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। ব্যক্তিগত বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ কিংবা একে অপরের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়াও বিরোধের কারণ হতে পারে। তবে আন্তরিকতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

সম্পর্ক সুন্দর রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও খোলামেলা যোগাযোগের বিকল্প নেই। শাশুড়ি ও পুত্রবধূ—দুজনেরই উচিত একে অপরের অনুভূতি ও ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা। কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলে রাগ বা অভিযোগ না বাড়িয়ে শান্তভাবে কথা বলা প্রয়োজন। পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও উভয়ের মতামতকে গুরুত্ব দিলে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হতে পারে।

জাতীয় শাশুড়ি দিবস উদযাপনে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। শাশুড়ির পছন্দের খাবার তৈরি করা, একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, তাঁর কোনো কাজে সহযোগিতা করা কিংবা আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানানো হতে পারে সুন্দর উপহার। তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের মূল্যায়ন করাও সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়াতে পারে। ছোট্ট একটি শুভেচ্ছা বার্তা কিংবা ভালোবাসার কয়েকটি কথাও তাঁর মুখে হাসি ফোটাতে পারে।

দিবসটির সূচনা হয়েছিল ১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আমেরিলো শহরে। স্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক জিন হাও (Gene Howe) শাশুড়িদের সম্মানে দিনটি পালনের উদ্যোগ নেন। প্রাথমিকভাবে ৫ মার্চ দিবসটি উদযাপিত হলেও পরবর্তী সময়ে অক্টোবরের শেষ রোববার পালনের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে অক্টোবরের চতুর্থ রোববার ‘ন্যাশনাল মাদার-ইন-ল ডে’ হিসেবে পরিচিত।

দিনটি শুধু শাশুড়িদের সম্মান জানানোর উপলক্ষ নয়, পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্ব উপলব্ধি করারও সুযোগ। ভালোবাসা, ধৈর্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা থাকলে প্রজন্মের পার্থক্য সত্ত্বেও সম্পর্ক সুন্দর হতে পারে। তাই আজকের দিনে শাশুড়ির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি পরিবারের বন্ধন আরও দৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে অর্থবহ উদযাপন।