অনেকেই স্নেহ প্রকাশ করতে শিশুদের গালে, কপালে কিংবা ঠোঁটে চুমু খান। কিন্তু এই অভ্যাস থেকেই শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বিভিন্ন সংক্রমণ। বিশেষ করে নবজাতকের ক্ষেত্রে হারপিস ভাইরাস, ফ্লু ও অন্যান্য জীবাণুর সংস্পর্শ বিপজ্জনক হতে পা তুলনামূলক বেশি। কারও ঠোঁটে জ্বরঠোসা বা হারপিসের লক্ষণ থাকলে শিশুকে চুমু দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। এমনকি দৃশ্যমান ঘা না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস ছড়াতে পারে। নবজাতকের হারপিস সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে, তাই এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
শুধু হারপিস নয়, সর্দি-কাশি, ফ্লু এবং শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য সংক্রমণও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তাই পরিবারের সদস্য বা অতিথিদের কারও জ্বর, কাশি, সর্দি কিংবা ঠোঁটে ঘা থাকলে শিশুকে কোলে নেওয়া ও চুমু দেওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। শিশুর কাছে যাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসও জরুরি।
পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। চুমুর মাধ্যমে কিছু সংক্রমণ ছড়াতে পারে, যার মধ্যে হারপিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা রয়েছে। তবে দাঁতের ক্ষয় সরাসরি চুমু খাওয়ার কারণে হয় না। মুখের জীবাণু আদান-প্রদানের মাধ্যমে কিছু জীবাণু ছড়াতে পারে, আর চিনিযুক্ত খাবার ও অপর্যাপ্ত দাঁতের পরিচর্যা দাঁতের ক্ষয়ের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
শিশুর শরীরে অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি, জ্বর, খেতে অনীহা, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে নবজাতকের জ্বর, ফোসকা বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে দেরি করা উচিত নয়। শিশুর বয়স কম হলে সামান্য লক্ষণও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শিশুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য চুমুই একমাত্র উপায় নয়। কোলে নেওয়া, কথা বলা, আদর করা এবং সময় দেওয়ার মাধ্যমেও স্নেহ প্রকাশ করা যায়। তাই শিশুকে চুমু দেওয়ার আগে তার বয়স, স্বাস্থ্য ও সংক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনা করুন। বিশেষ করে নবজাতকের মুখ, ঠোঁট ও হাতের কাছে চুমু দেওয়া এড়িয়ে চলুন এবং পরিবারের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন