গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন। এতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সহজ হবে। রোববার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অস্ত্রোপচার কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা চালু হলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য শুরুতেই হাসপাতালে ছুটতে হবে না। বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বয়স্ক মানুষ, দরিদ্র পরিবার এবং যাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন, তাঁদের জন্য এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত সময়সূচি ও সেবার পরিধি সম্পর্কে তিনি বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে শিবগঞ্জে নেওয়া হয় কয়েকটি মানবিক ও শিক্ষামূলক উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে গোলাপি রঙের সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে তাঁর ছবিসংবলিত মগ উপহার দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নারীশিক্ষায় উৎসাহ দেওয়া, ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো।
অনুষ্ঠানে মীর শাহে আলম বলেন, মেয়েদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও খাদেমদের স্বীকৃতি এবং বেতন-ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের তিন লক্ষাধিক মসজিদের ইমাম ও খাদেমকে আগামী তিন বছরের মধ্যে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং খাল খননের মতো কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিবগঞ্জে আয়োজিত চক্ষুচিকিৎসা কর্মসূচি সম্পর্কে আয়োজকেরা জানান, আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এর আগে মোকামতলা এলাকার সৈয়দপুর ইউনিয়নে প্রথম দিনে ২ হাজার মানুষ বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা নেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আয়োজকেরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়তে পারে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন