ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেনির ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ডিপফেকের সন্দেহ

জেনির ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। | ছবি: সংগৃহীত

জেনির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ব্ল্যাকপিংক তারকার একটি ভিডিও নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে আসছে। ভিডিওটিতে মঞ্চে পারফর্ম করার সময় জেনিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে এটি আসল কোনো দৃশ্য, নাকি প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত সামার সনিক ২০২৬ উৎসবে জেনির পরিবেশনার বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট টোকিও পর্বে পারফর্ম করেন এই কে-পপ তারকা। সামার সনিকের টোকিও ও ওসাকা—দুই পর্বেই তাঁর উপস্থিতি ছিল। সেই পরিবেশনার বিভিন্ন দৃশ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন অনেকে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন—ভিডিওটি আদৌ বাস্তব কি না। অনেকের ধারণা, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে ভিডিওটিকে নিশ্চিতভাবে ডিপফেক বলা যায়।

জেনির ভিডিও নিয়ে বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনুমতি ছাড়া কারও ছবি, মুখ বা কণ্ঠ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কিংবা যৌন হয়রানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করা। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ধরনের ডিপফেক কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির আইন সংশোধনের পর যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক তৈরি, সংরক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির বিধান জোরদার করা হয়। ফলে কোনো ভিডিও সন্দেহজনক হলে সেটি যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া নিয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কে-পপ তারকারা ডিপফেকের অন্যতম বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে তারকাদের মুখ ব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মানের জন্যই হুমকি নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ভাইরাল হলেই কোনো ভিডিওকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।

এদিকে জেনির ভিডিও সত্যিই ডিপফেক কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাই ভিডিওটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না গিয়ে যাচাইয়ের অপেক্ষা করাই নিরাপদ। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া সন্দেহজনক বা ব্যক্তিগত ভিডিও পুনরায় শেয়ার না করার পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জেনির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর, কারণ তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন তারকা এবং তাঁর ছবি বা ভিডিও খুব দ্রুত কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগে ভিডিওটি ছড়িয়ে না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেনির ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ডিপফেকের সন্দেহ

Update Time : ১০:২৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

জেনির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ব্ল্যাকপিংক তারকার একটি ভিডিও নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে আসছে। ভিডিওটিতে মঞ্চে পারফর্ম করার সময় জেনিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে এটি আসল কোনো দৃশ্য, নাকি প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত সামার সনিক ২০২৬ উৎসবে জেনির পরিবেশনার বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট টোকিও পর্বে পারফর্ম করেন এই কে-পপ তারকা। সামার সনিকের টোকিও ও ওসাকা—দুই পর্বেই তাঁর উপস্থিতি ছিল। সেই পরিবেশনার বিভিন্ন দৃশ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন  সময় রায়না ঘিরে তুমুল বিতর্ক, নেটফ্লিক্সে দারুণ প্রত্যাবর্তন

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন—ভিডিওটি আদৌ বাস্তব কি না। অনেকের ধারণা, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে ভিডিওটিকে নিশ্চিতভাবে ডিপফেক বলা যায়।

জেনির ভিডিও নিয়ে বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনুমতি ছাড়া কারও ছবি, মুখ বা কণ্ঠ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কিংবা যৌন হয়রানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করা। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ধরনের ডিপফেক কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করা হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির আইন সংশোধনের পর যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক তৈরি, সংরক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির বিধান জোরদার করা হয়। ফলে কোনো ভিডিও সন্দেহজনক হলে সেটি যাচাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া নিয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন  অরিজিৎ সিং ফিরলেন: ‘আওয়ারাপন ২’-এর নতুন গানে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কে-পপ তারকারা ডিপফেকের অন্যতম বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে তারকাদের মুখ ব্যবহার করে ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মানের জন্যই হুমকি নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ভাইরাল হলেই কোনো ভিডিওকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি।

আরও পড়ুন  জাংকুকের গান ছাড়াল ১৫০ কোটি স্ট্রিম

এদিকে জেনির ভিডিও সত্যিই ডিপফেক কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাই ভিডিওটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না গিয়ে যাচাইয়ের অপেক্ষা করাই নিরাপদ। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া সন্দেহজনক বা ব্যক্তিগত ভিডিও পুনরায় শেয়ার না করার পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জেনির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর, কারণ তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন তারকা এবং তাঁর ছবি বা ভিডিও খুব দ্রুত কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগে ভিডিওটি ছড়িয়ে না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।