বিটিএস কনসার্ট আবারও প্রমাণ করল, বিশ্বজুড়ে কে-পপের জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গে। দীর্ঘ বিরতির পর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আয়োজিত ব্যান্ডটির দুই দিনের কনসার্টে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। শুধু ভক্তরাই নন, দর্শকসারিতে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও তাঁর স্ত্রী ব্রিজিত মাখোঁও। ফলে এই আয়োজন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্যারিসের ঐতিহাসিক স্তাদে দ্য ফ্রান্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই কনসার্টে দুই দিনে প্রায় ৯২ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। এটি ইউরোপ সফরের অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগেই স্টেডিয়ামের বাইরে হাজারো ভক্ত জড়ো হন। কেউ বিটিএসের অফিসিয়াল মার্চেন্ডাইজ, কেউ আবার নিজেদের তৈরি ব্রেসলেট, কী-রিং ও উপহার নিয়ে অন্য ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
এই কনসার্টে উপস্থিত হয়ে বিশেষভাবে নজর কাড়েন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিটিএসের পারফরম্যান্সের একটি ভিডিও প্রকাশ করে প্যারিসে ব্যান্ডটিকে স্বাগত জানান। তাঁর হাতে বিটিএসের জনপ্রিয় লাইটস্টিকও দেখা যায়, যা ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
বিটিএস তাদের ইউরোপ সফরের শেষ কনসার্টে একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলে। উদ্বোধনী গান ছিল ‘হুলিগান’। এরপর পরিবেশিত হয় ‘নট টুডে’, ‘আইডল’, ‘বাটার’ এবং ‘ডায়নামাইট’-এর মতো বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় গান। প্রতিটি গানের সঙ্গে হাজারো দর্শক একসঙ্গে কণ্ঠ মেলান, যা পুরো স্টেডিয়ামকে এক বিশাল সঙ্গীত উৎসবে পরিণত করে।
এই বিটিএস কনসার্ট-এ শুধু তরুণ-তরুণীরাই নয়, বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন। অনেক পরিবার একসঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। ৫০ বছরের বেশি বয়সী দর্শকদের উপস্থিতিও প্রমাণ করে, বিটিএসের জনপ্রিয়তা কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কে-পপের এই বিশ্বব্যাপী প্রভাব আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্যারিসের এই আয়োজনের মাধ্যমে।
কনসার্ট শেষে ব্যান্ডের সদস্যরা ফরাসি ও কোরিয়ান ভাষায় ভক্তদের ধন্যবাদ জানান। জিমিন বলেন, এটি তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দর্শকসমাগমের একটি। আরএম ফরাসি ভাষায় দর্শকদের প্রশংসা করেন, আর জে-হোপ প্যারিসের আর্মিদের বিশ্বের সেরা ভক্ত বলে উল্লেখ করেন। সুগাও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৯ সালের তুলনায় এবারের আয়োজন ছিল অনেক বেশি বড় ও স্মরণীয়।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম Le Monde-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই আয়োজনকে বিটিএসের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ বিরতির পরও ব্যান্ডটির জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি; বরং আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে।
প্যারিসের সফল আয়োজন শেষ করে এবার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিটিএস। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের পরবর্তী পরিবেশনার দিকেই এখন ভক্তদের নজর। সংগীতপ্রেমীদের প্রত্যাশা, বছরের বাকি সময়েও ব্যান্ডটি আরও বড় বড় মঞ্চে একই রকম দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেবে।



























