বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে দুর্দান্তভাবে মাঠে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করেছেন তিনি। তবে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সও সান্তোসকে জয় এনে দিতে পারেনি। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ’র ম্যাচে চাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে দলটি।
শনিবার রাতে এস্তাদিও উরবানো কালদেরায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণভাগে সক্রিয় ছিলেন নেইমার। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকে সান্তোসের আক্রমণের মূল ভরসা হয়ে ওঠেন তিনি। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে তার করা গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় সান্তোস।
বিরতির পর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় চাপেকোয়েন্স। ৫১তম মিনিটে সমতায় ফেরে সফরকারীরা। এরপর ৬২তম মিনিটে জোয়াও আনানিয়াসের আত্মঘাতী গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চাপেকোয়েন্স। হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় সান্তোস এবং ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।
তবে দলের বিপদের মুহূর্তে আবারও সামনে আসেন নেইমার। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। তার দ্বিতীয় গোলেই ২-২ সমতায় ফিরে আসে সান্তোস। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়সূচক গোল করতে না পারায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ম্যাচে নেইমারের আধিপত্য ছিল পরিসংখ্যানেও। পুরো ম্যাচে তিনি ৯টি শট নেন, যার মধ্যে ৫টি ছিল লক্ষ্যে। দুটি গোলের পাশাপাশি সফাস্কোরের রেটিংয়ে পেয়েছেন ৯.৪। তার প্রত্যাশিত গোল বা এক্সজি ছিল ১.২০, যা ম্যাচে তার কার্যকারিতারই প্রতিফলন।
গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ গড়ার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচে ৬২টি পাসের মধ্যে ৪৮টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন তিনি। প্রতিপক্ষের অর্ধে ৫৯টি পাসের মধ্যে ৪৫টি সফল হয়। এছাড়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ কী পাস দিয়ে সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করেন।
জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর এটি ছিল নেইমারের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। তাই এই পারফরম্যান্স তার জন্য যেমন আত্মবিশ্বাসের বার্তা, তেমনি সান্তোস সমর্থকদের জন্যও স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিন পর আবারও পুরনো ছন্দের আভাস দিয়েছেন তিনি।
চলতি ব্রাজিলিয়ান সিরি আ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে ৬ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার। পাশাপাশি তৈরি করেছেন ১৯টি কী পাস এবং নিয়েছেন ৩০টি শট, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। পেনাল্টি থেকেও শতভাগ সফল তিনি, দুটি সুযোগ থেকেই করেছেন দুটি গোল।
এই ড্রয়ের ফলে ২০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে সান্তোস। যদিও দল জয় পায়নি, তবু নেইমারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল ম্যাচের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, ফিট ও ছন্দে থাকলে এখনও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য তার অটুট।
























