কাশ্মীর ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সাম্প্রতিক অধিবেশনে ভারত ও পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থান নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। বিষয়টি নতুন নয়, তবে দুই দেশের সাম্প্রতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। দেশটি জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পারভাথানেনি হরিশও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্যের পরপরই পাকিস্তান ‘রাইট অব রিপ্লাই’ ব্যবহার করে নিজেদের মতামত তুলে ধরে।
পাকিস্তানের প্রতিনিধি গুল কায়সার সারওয়ানি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। তার দাবি, অঞ্চলটির চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাগুলো এখনো প্রাসঙ্গিক। তিনি আরও বলেন, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
কাশ্মীর ইস্যু প্রসঙ্গে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদও সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক আলোচনায় কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন উভয় ইস্যুই গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, এসব বিরোধের সমাধান আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবনার আলোকে হওয়া উচিত।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ও কাশ্মীর প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে একাধিক আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ জমা হয়েছে। পাশাপাশি মে মাসে এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদ একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে। পাকিস্তানের দাবি, সাত দশকের বেশি সময় পার হলেও কাশ্মীর ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো সক্রিয় আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।
কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়। তবে জাতিসংঘে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো প্রমাণ করে যে বিষয়টি এখনো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান ছাড়া অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।




























