ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মার্কিন রাজনীতিতে কতটা প্রভাবশালী ইসরাইলি লবি Logo চন্দনাইশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, মা কালি সুইটসকে জরিমানা Logo রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ: শুক্রবার ঘোষণা নিয়ে জোরালো আলোচনা Logo স্বাস্থ্যখাতের অবক্ষয় ও বিদেশমুখী চিকিৎসা Logo খুলনা হত্যা মামলা: পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল Logo জেডি ভ্যান্সের ভ্রমণ তথ্য ফাঁস করায় সিক্রেট এজেন্ট বরখাস্ত Logo কমলগঞ্জে ১২০০ কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন Logo বিশ্বকাপজয়ী স্পেন ফুটবল দল পেল রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, ইতিহাস গড়ল চ্যাম্পিয়নরা Logo থাইরয়েড কেন বাড়ছে? জানুন কারণ ও প্রতিরোধের উপায় Logo চন্দনাইশ সমিতি-কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মহসীন কবীর ইন্তেকাল করেছেন

থাইরয়েড কেন বাড়ছে? জানুন কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৯

থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। (ছবি: সংগৃহীত)

বর্তমানে থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা গেলেও নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, বংশগত কারণ এবং পরিবেশগত নানা প্রভাবের কারণে থাইরয়েডজনিত সমস্যা বাড়ছে। তবে সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

থাইরয়েড হলো গলার সামনের অংশে অবস্থিত একটি ছোট প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, শক্তি উৎপাদন এবং বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থির কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিলে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েড রোগ প্রধানত দুই ধরনের—হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কম তৈরি হওয়া) এবং হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেশি তৈরি হওয়া)। উভয় ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ঘাম, হাত কাঁপা, মনোযোগে ঘাটতি ও মেজাজের পরিবর্তন। এসব উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

থাইরয়েড রোগ হওয়ার প্রধান কারণগুলো:

১. বংশগত কারণ
পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন বা নিকট আত্মীয়ের কারও থাইরয়েড রোগ থাকলে অন্য সদস্যদেরও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজম ও কিছু অটোইমিউন থাইরয়েড রোগে বংশগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।

২. আয়োডিনের ঘাটতি বা অতিরিক্ত গ্রহণ
থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন প্রয়োজন। দীর্ঘদিন আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. অটোইমিউন রোগ
হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস ও গ্রেভস ডিজিজের মতো রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে। ফলে হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়।

৪. হরমোনের পরিবর্তন
নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পরের সময় এবং মেনোপজের সময় শরীরে বড় ধরনের হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। এ সময় থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

৫. দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এটি একমাত্র কারণ নয়, তবে থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৬. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
অনিয়মিত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন এবং দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এর ফলে থাইরয়েডজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

৭. কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা
লিথিয়াম, অ্যামিওডারোনের মতো কিছু ওষুধ বা ঘাড়ের অংশে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার পর কিছু মানুষের থাইরয়েডের কার্যকারিতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন এসব চিকিৎসা চললে নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন।

৮. বয়স ও লিঙ্গ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।

থাইরয়েড রোগ
থাইরয়েডের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। (ছবি: সংগৃহীত)

থাইরয়েডের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন:

১. সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ডিম, মাছ, দুধ, টক দই, পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখুন। বিশেষ করে পালং শাক, লাল শাক, গাজর, টমেটো, ব্রোকলি, আপেল, কমলা, পেয়ারা, কলা, ওটস, লাল চাল, মসুর ডাল, ছোলা, ডিম, রুই, কাতলা, স্যামন বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ শরীরের জন্য উপকারী। এসব খাবারে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।

২. আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করুন
বাংলাদেশে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।

৩. সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান
থাইরয়েডের সুস্থ কার্যকারিতার জন্য সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রন গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, টুনা মাছ, সার্ডিন, মাশরুম, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, ছোলা, মসুর ডাল ও পালং শাকে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

৪. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা হালকা ব্যায়াম করুন। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীরের বিপাকক্রিয়া ভালো থাকে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। রাতে দেরি করে জেগে থাকার অভ্যাস কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৬. মানসিক চাপ কমান
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি, ধ্যান, যোগব্যায়াম, বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।

৭. ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
ধূমপান এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব অভ্যাস ত্যাগ করাই ভালো।

৮. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, চুল পড়া, গলায় ফোলাভাব, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ঘামের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে TSH, Free T4 এবং Free T3 পরীক্ষা করিয়ে নিন। পরিবারের কারও থাইরয়েডের ইতিহাস থাকলে বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ভালো।

৯. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন
থাইরয়েড ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা, ডোজ পরিবর্তন করা বা অন্যের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন রাজনীতিতে কতটা প্রভাবশালী ইসরাইলি লবি

থাইরয়েড কেন বাড়ছে? জানুন কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

Update Time : ১০:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বর্তমানে থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা গেলেও নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, বংশগত কারণ এবং পরিবেশগত নানা প্রভাবের কারণে থাইরয়েডজনিত সমস্যা বাড়ছে। তবে সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

থাইরয়েড হলো গলার সামনের অংশে অবস্থিত একটি ছোট প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, শক্তি উৎপাদন এবং বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থির কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিলে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েড রোগ প্রধানত দুই ধরনের—হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কম তৈরি হওয়া) এবং হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেশি তৈরি হওয়া)। উভয় ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ঘাম, হাত কাঁপা, মনোযোগে ঘাটতি ও মেজাজের পরিবর্তন। এসব উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

থাইরয়েড রোগ হওয়ার প্রধান কারণগুলো:

১. বংশগত কারণ
পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন বা নিকট আত্মীয়ের কারও থাইরয়েড রোগ থাকলে অন্য সদস্যদেরও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজম ও কিছু অটোইমিউন থাইরয়েড রোগে বংশগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  বর্ষাকালে কেন খিচুড়ি খাবেন? জানুন পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

২. আয়োডিনের ঘাটতি বা অতিরিক্ত গ্রহণ
থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন প্রয়োজন। দীর্ঘদিন আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. অটোইমিউন রোগ
হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিস ও গ্রেভস ডিজিজের মতো রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে। ফলে হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়।

৪. হরমোনের পরিবর্তন
নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পরের সময় এবং মেনোপজের সময় শরীরে বড় ধরনের হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। এ সময় থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

৫. দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এটি একমাত্র কারণ নয়, তবে থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৬. অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
অনিয়মিত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন এবং দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরের বিপাকক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এর ফলে থাইরয়েডজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

৭. কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা
লিথিয়াম, অ্যামিওডারোনের মতো কিছু ওষুধ বা ঘাড়ের অংশে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়ার পর কিছু মানুষের থাইরয়েডের কার্যকারিতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন এসব চিকিৎসা চললে নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন।

৮. বয়স ও লিঙ্গ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।

আরও পড়ুন  শিশুর সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ার সহজ ৭ কার্যকর উপায়
থাইরয়েড রোগ
থাইরয়েডের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। (ছবি: সংগৃহীত)

থাইরয়েডের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন:

১. সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ডিম, মাছ, দুধ, টক দই, পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখুন। বিশেষ করে পালং শাক, লাল শাক, গাজর, টমেটো, ব্রোকলি, আপেল, কমলা, পেয়ারা, কলা, ওটস, লাল চাল, মসুর ডাল, ছোলা, ডিম, রুই, কাতলা, স্যামন বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ শরীরের জন্য উপকারী। এসব খাবারে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।

২. আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করুন
বাংলাদেশে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।

৩. সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান
থাইরয়েডের সুস্থ কার্যকারিতার জন্য সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রন গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, টুনা মাছ, সার্ডিন, মাশরুম, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, ছোলা, মসুর ডাল ও পালং শাকে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

৪. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা হালকা ব্যায়াম করুন। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীরের বিপাকক্রিয়া ভালো থাকে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। রাতে দেরি করে জেগে থাকার অভ্যাস কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জেগে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

আরও পড়ুন  ঘরের তেলাপোকা ডেকে আনতে পারে প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি

৬. মানসিক চাপ কমান
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরের বিভিন্ন হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি, ধ্যান, যোগব্যায়াম, বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।

৭. ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
ধূমপান এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব অভ্যাস ত্যাগ করাই ভালো।

৮. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, চুল পড়া, গলায় ফোলাভাব, হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ঘামের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন হলে TSH, Free T4 এবং Free T3 পরীক্ষা করিয়ে নিন। পরিবারের কারও থাইরয়েডের ইতিহাস থাকলে বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ভালো।

৯. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন
থাইরয়েড ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা, ডোজ পরিবর্তন করা বা অন্যের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।