নিট বিক্ষোভ ঘিরে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বিরোধী জোট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না। এই অবস্থান সংসদের চলমান অচলাবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সংসদ ভবনে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা। বৈঠক শেষে কংগ্রেস নেতা কে.সি. বেনুগোপাল জানান, সব বিরোধী দল একমত হয়েছে যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনায় বসার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কথা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকেও জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে মোদি সরকার জানিয়েছে, তারা সংসদে নিট বিক্ষোভ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার কোনো বিতর্ক এড়িয়ে যেতে চায় না এবং সংসদে সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের দাবি, আলোচনা হলেই প্রকৃত তথ্য দেশের মানুষের সামনে উঠে আসবে।
এদিকে সংসদ ভবনের বাইরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সরকারের নেই। তাই আলোচনার আগে দায় স্বীকার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই হতে হবে প্রথম পদক্ষেপ। বিরোধীদের মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক নয়, লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় ইস্যু।
বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতীন নবীন বিরোধীদের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা সংসদীয় আলোচনার মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। তার ভাষায়, সংসদে বিতর্ক শুরু হলে দেশের মানুষ বুঝতে পারবে কে সত্য বলছে আর কে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে। তিনি বিরোধীদের সংসদে এসে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, এনডিএ সরকার প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত।
নিট বিক্ষোভ এখন শুধু একটি পরীক্ষা বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয় নয়, বরং ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, অন্যদিকে সরকার ও বিরোধীদের রাজনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়।



























