ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি Logo ‘কোনো অহংকার ছিল না জাভেদ ভাইয়ের’: স্মৃতিকাতর রোজিনা Logo প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে: উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন দিক Logo স্টার্টআপ জগতে বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত চাহিদা ও বাস্তবতা Logo বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তারা কেন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন Logo বিশ্বকাপে আবারও ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল, জার্মানিকে টপকে শীর্ষে গোলদাতা দল Logo বাজারচাপে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পথে বিএমডব্লিউ Logo যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে গালফ এয়ারলাইনসের নতুন অগ্রগতি Logo বিশ্বকাপে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে ক্ষুব্ধ তেহরান Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন রুখে দিল বিজিবি, আটক ২০ জন

রেকর্ডগড়া গোলে তুরস্ককে বিদায় করে নকআউটের লড়াইয়ে প্যারাগুয়ে

প্যারাগুয়ের উচ্ছ্বাস

রেকর্ডগড়া এক গোলে তুরস্ককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে করা মাতিয়াস গালারজার গোলই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য।

শনিবার বাংলাদেশ সময় সকালে স্যান ফ্র্যান্সিসকো বে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই নাটকীয়তা দেখা যায়। কিক অফের এক মিনিটও পূর্ণ হওয়ার আগেই তুরস্কের জালে বল জড়িয়ে দেন গালারজা। এরপর পুরো ম্যাচে আর কোনো গোল হয়নি।

এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ পয়েন্ট। ফলে শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে তাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা এখনো জীবিত রয়েছে। বিপরীতে তুরস্কের কোনো পয়েন্ট না থাকায় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেছে।

প্যারাগুয়ের জয়ের ফলে একটি বড় সমীকরণও পরিষ্কার হয়ে গেছে। টানা দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। ফলে স্বাগতিক দলটি শেষ ৩২-এর ম্যাচও নিজেদের পরিচিত ভেন্যুতেই খেলতে পারবে।

দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার লড়াইই অনেকটা নির্ধারণ করবে নকআউট পর্বে কারা জায়গা করে নেবে।

ম্যাচের শুরুতেই প্যারাগুয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফেলে। হুলিও এনসিসো মাঝমাঠ থেকে ফাঁকা জায়গা দেখে বল এগিয়ে দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে গোল করেন মাতিয়াস গালারজা।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৬৪ সেকেন্ড। এটি চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড। একই সঙ্গে গত ২৮ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে কোনো লাতিন আমেরিকান দলের দ্রুততম গোল হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে এই মুহূর্তটি।

এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার সেলসো আয়ালা ৫২ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পর আবারও দ্রুততম গোলের তালিকায় নিজেদের নাম উজ্জ্বল করল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

গোল করার দুই মিনিটের মধ্যেই অবশ্য হলুদ কার্ড দেখে বসেন গালারজা। এরপর গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে নতুন এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম হয়। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার মের্তে মুলদুরের উদ্দেশে মুখ ঢেকে কিছু বলায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড মিগেল আলমিরন।

মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে কথা বলার ঘটনায় নতুন নিয়ম কার্যকরের পর বিশ্বকাপে এটিই প্রথম লাল কার্ডের ঘটনা। ফলে পুরো দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় প্যারাগুয়ে।

সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পরও অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা। অন্যদিকে তুরস্ক পুরো দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

ম্যাচজুড়ে ৭৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল তুরস্ক। তারা মোট ৩১টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো শটই গোলে রূপ নিতে পারেনি।

কখনো পোস্টে লেগে বল ফিরে এসেছে, আবার কখনো সামনে দাঁড়িয়ে গেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সই ম্যাচের অন্যতম বড় পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে শট নেন মেরিহ দেমিরাল। কিছুক্ষণ পর কেনান ইয়িলদিজও সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু প্রতিবারই প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ এবং গোলকিপার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ পর্যন্ত শত চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি আর্দা গুলের, হাকান চালহানওগ্লু ও তাদের সতীর্থরা। অন্যদিকে এক গোলের লিড ধরে রেখে মূল্যবান জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে, যা তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে আরও এক ম্যাচের জন্য বাঁচিয়ে রাখল।

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি

রেকর্ডগড়া গোলে তুরস্ককে বিদায় করে নকআউটের লড়াইয়ে প্যারাগুয়ে

Update Time : ১২:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

রেকর্ডগড়া এক গোলে তুরস্ককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে করা মাতিয়াস গালারজার গোলই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য।

শনিবার বাংলাদেশ সময় সকালে স্যান ফ্র্যান্সিসকো বে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই নাটকীয়তা দেখা যায়। কিক অফের এক মিনিটও পূর্ণ হওয়ার আগেই তুরস্কের জালে বল জড়িয়ে দেন গালারজা। এরপর পুরো ম্যাচে আর কোনো গোল হয়নি।

এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ পয়েন্ট। ফলে শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে তাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা এখনো জীবিত রয়েছে। বিপরীতে তুরস্কের কোনো পয়েন্ট না থাকায় তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেছে।

প্যারাগুয়ের জয়ের ফলে একটি বড় সমীকরণও পরিষ্কার হয়ে গেছে। টানা দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট পাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। ফলে স্বাগতিক দলটি শেষ ৩২-এর ম্যাচও নিজেদের পরিচিত ভেন্যুতেই খেলতে পারবে।

আরও পড়ুন  দ্রুততম গোলের ঝলক, লাল কার্ডের ধাক্কা; নাটকীয় প্রথমার্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে প্যারাগুয়ে

দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার লড়াইই অনেকটা নির্ধারণ করবে নকআউট পর্বে কারা জায়গা করে নেবে।

ম্যাচের শুরুতেই প্যারাগুয়ে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফেলে। হুলিও এনসিসো মাঝমাঠ থেকে ফাঁকা জায়গা দেখে বল এগিয়ে দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে গোল করেন মাতিয়াস গালারজা।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৬৪ সেকেন্ড। এটি চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড। একই সঙ্গে গত ২৮ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে কোনো লাতিন আমেরিকান দলের দ্রুততম গোল হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে এই মুহূর্তটি।

এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার সেলসো আয়ালা ৫২ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পর আবারও দ্রুততম গোলের তালিকায় নিজেদের নাম উজ্জ্বল করল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

আরও পড়ুন  প্যারাগুয়ের কাছে তুরস্কের হার, ১০ জন নিয়েও জয়

গোল করার দুই মিনিটের মধ্যেই অবশ্য হলুদ কার্ড দেখে বসেন গালারজা। এরপর গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি তারা।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে নতুন এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম হয়। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার মের্তে মুলদুরের উদ্দেশে মুখ ঢেকে কিছু বলায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড মিগেল আলমিরন।

মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে কথা বলার ঘটনায় নতুন নিয়ম কার্যকরের পর বিশ্বকাপে এটিই প্রথম লাল কার্ডের ঘটনা। ফলে পুরো দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় প্যারাগুয়ে।

সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পরও অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা। অন্যদিকে তুরস্ক পুরো দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

আরও পড়ুন  প্রথম ম্যাচের ড্র নিয়ে আনচেলত্তির বার্তা, হতাশ নয় ব্রাজিল

ম্যাচজুড়ে ৭৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল তুরস্ক। তারা মোট ৩১টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো শটই গোলে রূপ নিতে পারেনি।

কখনো পোস্টে লেগে বল ফিরে এসেছে, আবার কখনো সামনে দাঁড়িয়ে গেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সই ম্যাচের অন্যতম বড় পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে শট নেন মেরিহ দেমিরাল। কিছুক্ষণ পর কেনান ইয়িলদিজও সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু প্রতিবারই প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ এবং গোলকিপার বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

শেষ পর্যন্ত শত চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি আর্দা গুলের, হাকান চালহানওগ্লু ও তাদের সতীর্থরা। অন্যদিকে এক গোলের লিড ধরে রেখে মূল্যবান জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে, যা তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে আরও এক ম্যাচের জন্য বাঁচিয়ে রাখল।