মালয়েশিয়ার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য Mirza Abbas আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন। বুধবার (২০ মে) বিকেলে মালয়েশিয়া থেকে অডিও কলে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত থেরাপির মধ্যে রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি এখন “মোটামুটি” ভালো আছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি। চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলছেন বলেও জানান এই বিএনপি নেতা।
দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, দেশের মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই তাকে দ্রুত সুস্থ হতে অনুপ্রাণিত করছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর রহমতেই তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া কামনা করেন তিনি।
কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, পুরোপুরি সুস্থ হলেই দেশে ফিরবেন। এখনো চিকিৎসা ও থেরাপির মধ্যে রয়েছেন বলে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু এগোচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
খাওয়া-দাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আল্লাহর রহমতে তার খাওয়া-দাওয়ায় এখন কোনো সমস্যা নেই। শারীরিক অবস্থার উন্নতির কারণে চিকিৎসকেরা তার খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। এতে করে আগের তুলনায় তিনি অনেক বেশি স্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অডিও কলে মির্জা আব্বাসের পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী Afroza Abbas। তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকেরা তার উন্নতিতে সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ধাপে ধাপে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় চিকিৎসার পর এখন তাকে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালে তাকে রাখা হয়েছে।
গত ১৪ এপ্রিল ফিজিওথেরাপির জন্য মালয়েশিয়ার Prince Court Medical Centre হাসপাতালে ভর্তি হন মির্জা আব্বাস। হাসপাতালটি আধুনিক পুনর্বাসন চিকিৎসা ও থেরাপি ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার থেরাপি চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। জ্ঞান হারিয়ে ফেললে দ্রুত তাকে রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টিম জরুরি ভিত্তিতে তার চিকিৎসা শুরু করে।
চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। পরে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাকে। ওই সময় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে Singapore General Hospital হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক সাড়া-প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকেরা পরবর্তী পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপির জন্য মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তাকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চলছে তার দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি ও পুনর্বাসন কার্যক্রম।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একজন হিসেবে মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার অসুস্থতার খবরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও বর্তমানে তার সুস্থতার খবরে স্বস্তি ফিরেছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিয়মিত তার খোঁজখবর নিচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করে অনেকে পোস্ট দিচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বও তার সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগে এবং রোগীকে দীর্ঘ সময় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হয়। সে কারণে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও পর্যবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা আব্বাসও সেই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে তার শারীরিক সক্ষমতা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা তার উন্নতিতে আশাবাদী এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলেও আশা করছেন। তবে এ জন্য আরও কিছুদিন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে মির্জা আব্বাস যে বার্তা দিয়েছেন, তা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার সমর্থকেরা আশা করছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন।
























